নয়াদিল্লি: নয়া ভারত গঠনে ‘জন বিশ্বাস’-কেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার নাগরিকদের উপর আস্থা রাখেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রশাসনিক জটিলতার বদলে মানুষের আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্রমাণিত ব্যবস্থাকেই ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“সরকার তখনই সফল হয়, যখন মানুষ সরকারকে বিশ্বাস করে। আজ ভারতের অগ্রগতির পেছনে নাগরিকদের সেই বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
*অর্থনীতি নিয়ে বিরাট বার্তা*
দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মোদী বলেন,
“ভারতের অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার জন্য হিন্দু ধর্ম দায়ী—এই ধারণা একেবারেই ভ্রান্ত। এটি ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“বিশ্ব যখন বিভক্ত এবং আর্থিক সংকটে ভুগছে, তখন ভারত সেতুবন্ধনের কাজ করছে। আজ ভারত আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এবং উন্নয়নের পথে অগ্রসর।”
*জন বিশ্বাস আইন ও স্ব-প্রমাণিত নথি*
মোদী সরকারের নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“সরকারি কাজে অতিরিক্ত কাগজপত্রের জটিলতা নয়, নাগরিকের স্বপ্রমাণিত নথিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটাই আমাদের নতুন ‘জন বিশ্বাস আইন’-এর মূল দর্শন।”
*৩৭ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের হাতে*
প্রধানমন্ত্রী জানান,
“সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩৭ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার ও দুর্বল শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছেছে। গ্যারান্টি ছাড়াই ছোট ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এটাই মানুষের উপর আস্থা রাখা শাসনব্যবস্থা।”
*দাবিহীন ১ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা!*
চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
দেশের ব্যাঙ্কগুলিতে প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
এছাড়া—
বিমা সংস্থায়: প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা
মিউচুয়াল ফান্ডে: ৩ হাজার কোটি টাকা
ডিভিডেন্ডে: ৯ হাজার কোটি টাকা
সব মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা এখনও প্রকৃত মালিকের হাতে পৌঁছায়নি।
তিনি বলেন,
“এই অর্থের প্রকৃত মালিক মূলত গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবার। অনেকেই জানেন না তাঁদের নামেই এই টাকা জমা আছে।”
*জেলা স্তরে বিশেষ শিবির*
এই দাবিহীন টাকা ফেরত দিতে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে বিশেষ শিবির শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার, যাতে মানুষ নিজের হারানো অর্থ ফিরে পান।
*ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তির ডাক*
আগামী দশ বছরের রূপরেখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য ভারতকে ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা। আমরা আর অন্যদের পথ অনুসরণ করব না। সব বাধা পেরিয়ে নিজেদের পথ নিজেরাই তৈরি করব।”







