দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। এই তালিকায় নতুন ভোটার হিসেবে কারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন—তা সহজেই যাচাই করা যাবে। রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে নিজের ভোটার তথ্য যাচাই করার সুযোগ দিয়েছে কমিশন।
খসড়া ভোটার তালিকা দেখতে ও যাচাই করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাবে। নাগরিকরা https://ceowestbengal.wb.gov.in/SIR এবং **https://electoralsearch.eci.gov.in/**–এই দুই ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি ECINET মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও তালিকা পরীক্ষা করা সম্ভব। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে প্লে স্টোরে গিয়ে “ECINET” সার্চ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ও বুথভিত্তিক ভোটার তালিকায় কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণও সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কীভাবে যাচাই করবেন নিজের নাম:
ভোটার তালিকা দেখার জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে দুটি তথ্য দিতে হবে—
বাম দিকে EPIC নম্বর
ডান দিকে রাজ্যের নাম
এই তথ্যগুলি দেওয়ার পর নিচে প্রদত্ত CAPTCHA কোড বসিয়ে Search অপশনে ক্লিক করলেই জানা যাবে ভোটার তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না।
শুধু নিজের নামই নয়, খসড়া তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, সেই তালিকাও আলাদাভাবে দেখা যাবে। এ জন্য নাগরিকরা সরাসরি https://ceowestbengal.wb.gov.in/SIR এবং https://voters.eci.gov.in/ লিঙ্ক ব্যবহার করতে পারবেন।
যেহেতু এটি একটি প্রাথমিক খসড়া তালিকা, তাই যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাদের জন্য শোনা, আপত্তি বা অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নাগরিকরা যদি মনে করেন, তাঁদের নাম অনভিপ্রেতভাবে বাদ পড়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশোধনের আবেদন জানাতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি বুথ ও বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তথ্য যাচাই অত্যন্ত জরুরি। এই খসড়া তালিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করা।
ভোটারদের প্রতি কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—সময়সীমার মধ্যেই নিজের নাম ও তথ্য যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের আবেদন জানান। ভোটের আগে সঠিক তালিকা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।







