ভারতের মহিলা ক্রিকেটে আরও এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এল বিসিসিআই (BCCI)। ঘরোয়া স্তরের মহিলা ক্রিকেটার এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের ম্যাচ ফি এক ধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সম্প্রতি ভারতের মহিলা দল প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করার পরই বোর্ড এই বড়সড় পদক্ষেপ নিল। মূলত লিঙ্গবৈষম্য দূর করে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও লাভজনক করে তোলাই বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
বিসিসিআই-এর অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঘরোয়া স্তরের সিনিয়র মহিলা ক্রিকেটাররা এখন থেকে প্রতিদিন ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা করে পাবেন। আগে যেখানে তাঁরা প্রতি ম্যাচের দিন মাত্র ২০,০০০ টাকা পেতেন, সেই অঙ্কটা এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেল। একইভাবে রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও আগের তুলনায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। এক দিনের ম্যাচ বা দীর্ঘ ফরম্যাটের ম্যাচে প্রথম একাদশের খেলোয়াড়রা দিনপ্রতি ৫০,০০০ টাকা পাবেন, আর রিজার্ভ খেলোয়াড়রা পাবেন ২৫,০০০ টাকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্ষেত্রে এই অঙ্কটা ম্যাচ প্রতি ২৫,০০০ এবং ১২,৫০০ টাকা। বোর্ডের এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর একজন প্রথম সারির ঘরোয়া মহিলা ক্রিকেটার পুরো মরশুমের সব কটি ফরম্যাট খেললে বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন। অনূর্ধ্ব-২৩ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের মেয়েদের ফি বাড়িয়েও দিনপ্রতি ২৫,০০০ টাকা করা হয়েছে।
সুদিন আসছে ম্যাচ অফিশিয়ালদেরও। আম্পায়ার এবং ম্যাচ রেফারিদের পারিশ্রমিকও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে লিগ ম্যাচগুলোতে আম্পায়াররা প্রতিদিন ৪০,০০০ টাকা করে পাবেন। নক-আউট বা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে এই অঙ্কটা বেড়ে দাঁড়াবে দিনপ্রতি ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা। এর ফলে রঞ্জি ট্রফির মতো টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করে একজন অফিশিয়াল প্রতি ম্যাচে প্রায় ১.৬০ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। বিসিসিআই মনে করছে, এই আর্থিক নিরাপত্তা মহিলা ক্রিকেটারদের আরও বেশি করে অনুপ্রাণিত করবে এবং ক্রিকেটে কেরিয়ার গড়তে অনেক মেয়ে এগিয়ে আসবে। আর্থিক সচ্ছলতা আসার ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের মান যেমন বাড়বে, তেমনই ক্রিকেট পরিকাঠামোয় নিযুক্ত অফিশিয়ালরাও আরও বেশি পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে পারবেন।







