অফবিট

বড়দিনে আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে অ্যালার্জির ফাঁদ! সতর্ক করুন ‘ক্রিসমাস ট্রি সিনড্রোম’

বড়দিন মানেই আলো, রঙিন সাজ আর উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে ক্রিসমাস ট্রি, সান্তাক্লজ, তারার ঝিকিমিকি আলো—সব মিলিয়ে খুশির আবহ। তবে এই আনন্দেই হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এক অচেনা শারীরিক সমস্যা—‘ক্রিসমাস ট্রি সিনড্রোম’। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের সময়ে ঘরে আনা ক্রিসমাস ট্রিই অনেকের অ্যালার্জির কারণ হয়ে উঠছে।

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায়, জ্যান্ত পাইন বা কনিফেরাস গাছে থাকা মোল্ড বা ছত্রাকের স্পোর থেকেই এই সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় জানা গিয়েছে, ঘরের ভিতরে গাছ রাখার কয়েক দিনের মধ্যেই বাতাসে ছত্রাকের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। এর ফলে হাঁচি, কাশি, চোখ জ্বালা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ শুরু হতে পারে। শুধু জ্যান্ত গাছই নয়, কৃত্রিম ক্রিসমাস ট্রিতেও বিপদের আশঙ্কা কম নয়। দীর্ঘদিন স্টোররুমে পড়ে থাকা গাছে জমে থাকা ধুলো, ডাস্ট মাইটস অনেকের শরীরে তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এই ‘ক্রিসমাস ট্রি সিনড্রোম’-এর সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে অনবরত হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ লাল হওয়া, গলা খুসখুস, ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি। কারও কারও ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাস নিতে কষ্টও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই অ্যাজমা, সিওপিডি বা ঋতু পরিবর্তনের অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাঁদের জন্য ঝুঁকি বেশি।

তবে কিছু সতর্কতা মেনে চললে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিসমাস ট্রি ঘরে আনার আগে ভালো করে পরিষ্কার করা জরুরি। পুরনো অরনামেন্টস ব্যবহার করার সময় মাস্ক পরা উচিত। ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ারও উপকারী হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা নেজাল স্প্রে রাখা যেতে পারে। উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। সুস্থ থাকলেই বড়দিনের খুশি পূর্ণতা পায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.