বছরের শেষপ্রান্তে টলিউডে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন তিনি। সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ রাজারহাটের একটি ক্যানসার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন জগৎ।
ছোটপর্দা, বড়পর্দা ও নাটকের মঞ্চ—তিন ক্ষেত্রেই সমান দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন শ্রাবণী। অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা ও চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতার জন্য দর্শকের কাছে ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বহু বছর ধরে নিয়মিত কাজ করে নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন ভীষণ প্রিয়।
দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন শ্রাবণী। ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল রাজারহাটের ক্যানসার হাসপাতালে। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষদিকে তাঁকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান চিকিৎসকেরা, কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য সমাজমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত আর্দশ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন চিকিৎসার জন্য। একাধিক পোস্টে মায়ের মানসিক শক্তি ও লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছিলেন অচ্যুত। এই কঠিন রোগ যে গোটা পরিবারকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়, সে কথাও অকপটে জানিয়েছিলেন তিনি।
‘লালকুঠি’, ‘রাঙা বউ’, ‘গোধূলী আলাপ’, ‘সোহাগ চাঁদ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে শ্রাবণীর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। পাশাপাশি তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় ‘আলো’ ও ‘চাঁদের বাড়ি’-র মতো ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
কয়েক মাস আগে তাঁর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এলে আনন্দবাজার ডট কমের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল শ্রাবণীর সঙ্গে। সে সময় তিনি অসুখ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফের কাজে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। সেই আশা অপূর্ণই থেকে গেল।
শ্রাবণীর প্রয়াণের খবরে টলিপাড়ার বহু শিল্পী ও শুভানুধ্যায়ী শোকপ্রকাশ করেছেন। এক নিষ্ঠাবান অভিনেত্রীকে হারিয়ে শূন্যতা তৈরি হল বাংলা বিনোদন জগতে।







