জুম্মার নমাজ চলাকালীন ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। শুক্রবার দুপুরে শিয়া ইমামবাড়া মসজিদে এই হামলায় সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩১ জনের। আহত দেড় শতাধিক। গুরুতর আহতদের একাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
হামলার পরপরই ফের ভারত ও আফগানিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে পাকিস্তান। যদিও ইসলামাবাদের সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সুর শোনা গিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের তরফেও।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, আত্মঘাতী হামলাকারীর আফগানিস্তানে যাতায়াত ছিল। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে গুলি চালাতে শুরু করে। পরে মসজিদের ভিতরে ঢুকে প্রার্থনাকারীদের শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় ওই জঙ্গি। এখানেই থামেননি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভারত ও তালিবান সরকারের মধ্যে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলছে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অন্য পথে প্রতিশোধ’ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, ইসলামাবাদের ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারত গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিজেদের দেশে সন্ত্রাসবাদের সমস্যার মোকাবিলা না করে অন্যদের দোষারোপ করা পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস। ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
পাকিস্তানের দাবি নস্যাৎ করেছে আফগানিস্তানও। তালিবান সরকারের বক্তব্য, কোনও সঠিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অন্য দেশের উপর দায় চাপানো দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। পাশাপাশি তারা প্রশ্ন তোলে, যদি হামলাকারীর পরিচয় ও গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য থাকে, তা হলে এই হামলা প্রতিরোধ করা গেল না কেন?
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আত্মঘাতী জঙ্গি ‘সুইসাইড ভেস্ট’ পরে মসজিদে প্রবেশ করেছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের ভিতরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারতের উপর দায় চাপানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। তবে এ বারও সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেনি পাকিস্তান।







