মার্কিন সেনা মোতায়েন বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি—কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করে না ইরান। আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে তারা ভয় পায় না বলেই সাফ জানাল তেহরান। রবিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, সেনা সজ্জা দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
রবিবার রাজধানী তেহরানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আব্বাস বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার আনাগোনায় ইরান মোটেই আতঙ্কিত নয়। সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, ওই মঞ্চ থেকেই আমেরিকার সঙ্গে চলা সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি। বিদেশমন্ত্রীর দাবি, ওমানে আয়োজিত পরোক্ষ সমঝোতা-বৈঠক চললেও আমেরিকা আদৌ সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হয় না।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ ইস্যুতে কোনও আপসের প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন আব্বাস। তাঁর কথায়,
“আমরা কেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের উপর জোর দিচ্ছি? কেন যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতেও পিছু হটছি না? কারণ, আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।”
আমেরিকার মোকাবিলায় ইরান যে একা নয়, তাও এ দিন স্পষ্ট করে দেন বিদেশমন্ত্রী। জানান, সমঝোতা-বৈঠক এবং মার্কিন সেনা তৎপরতা নিয়ে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এই দুই দেশকে ইরানের ‘কৌশলগত বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইজ়রায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন যুদ্ধ চলেছিল, যেখানে সাময়িক ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকাও। সেই সংঘাতের পর এই প্রথম শুক্রবার ওমানে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় বসে তেহরান। যদিও ওই আলোচনা থেকে কোনও ইতিবাচক ফল মিলেছে বলে মনে করছেন না কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
এরই মধ্যে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বার ইরানে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। পাশাপাশি, ইরান থেকে তেল পরিবহণের অভিযোগে সম্প্রতি ১৪টি জাহাজ ও বিভিন্ন দেশের ১৫টি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হোয়াইট হাউস। ফলে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র স্বীকৃত পরমাণু শক্তিধর দেশ ইজ়রায়েল। অভিযোগ, ইরানও পরমাণু বোমা তৈরির পথে হাঁটছে। যদিও এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে তেহরান। এ দিন আব্বাস বলেন,
“ওরা আমাদের পরমাণু বোমাকে ভয় পায়। কিন্তু আমরা সেই বোমা চাই না। বড় শক্তিগুলিকে ‘না’ বলার সাহসটাই আমাদের আসল অস্ত্র।”







