একটা ফোন বদলে দিল সবকিছু। দলে না থেকেও টেস্ট অভিষেক, আর সেখানেই নজর কাড়া পারফরম্যান্স। এ যেন স্বপ্ন নয়, বাস্তবেই অংশুল কম্বোজের জীবনের রূপকথা। মেরেকেটে ৬০ কিমি দূরত্ব ফাজিলপুর আর পানিপতের মধ্যে, কিন্তু নীরজ চোপড়া ও অংশুল কম্বোজের গল্প যেন একই সূত্রে গাঁথা। শুরুটা দু’জনেরই শরীরচর্চার অজুহাতে, শেষটা ভারতের প্রতিনিধিত্বে!
ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে ভারতীয় দলে ডাক পাননি কম্বোজ। ছিলেন ‘এ’ দলে। খেলেও ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু আকাশদীপ ও অর্শদীপের চোটে ফের ডাক আসে তাঁর জন্য। বাদ যান মুকেশ কুমার ও হর্ষিত রানা। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ইতিহাস গড়ার পথে পা রাখলেন হরিয়ানার এই তরুণ পেসার। রঞ্জিতে ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর, আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র ২৪ ম্যাচে ৭৯ উইকেট। চেন্নাই সুপার কিংসে আইপিএল অভিষেকের পর এবার দেশের জার্সি গায়ে টেস্ট খেলা—সব যেন স্বপ্নের মতো।
তবে এই সাফল্যের পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর বাবার অদম্য বিশ্বাস। বাবা উধম সিং মৃগীতে আক্রান্ত হলেও ছেলের জন্য হাসপাতাল থেকে তাকিয়ে আছেন টিভির পর্দায়। কোচ সতীশ রানা ওর পরিশ্রম, স্টাম্প লক্ষ করে একা বল করার দৃঢ় মনোভাবের প্রশংসা করেছেন।
ধোনি, অশ্বিন, ফ্লেমিং—তিন মহাতারকাই প্রশংসা করেছেন তাঁর লেংথ, অ্যাকশন ও বুদ্ধির। রবিচন্দ্রন অশ্বিন তো বলেই দিয়েছেন, “অংশুল মাঠে পরিকল্পনা প্রয়োগ করতে জানে। যা সবার থাকে না।” অমরজিৎ কেপি মনে করেন, ইংল্যান্ডে অংশুল ভারতের ভবিষ্যৎ।
ভারতীয় ক্রিকেটে এমন উদাহরণ বিরল নয়, তবে অংশুল কম্বোজের গল্প নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। কারণ, সুযোগ না পেয়েও তৈরি থাকা—এটাই তো আসল লড়াই।







