জেলারাজনীতি

নির্বাচনের আগে শিলান্যাস? নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় হলং বনবাংলো

উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বহুচর্চিত নাম হলং বনবাংলো। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান-এর গভীরে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী বাংলোটি ১৯৬৭ সালে নির্মিত হওয়ার পর থেকেই প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় কাঠের তৈরি সেই ঐতিহাসিক স্থাপনা।
রাত প্রায় ন’টা নাগাদ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো কাঠামো। আগুনের তীব্রতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলোটি। দুর্ঘটনার পর থেকেই পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বন দফতর।
সূত্রের খবর, নতুন বাংলো নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও অগ্নিরোধী উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগের মতো সম্পূর্ণ কাঠের কাঠামো না রেখে কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে ভবনটি। তবে বাহ্যিক নকশায় থাকবে আগের ঐতিহ্যের ছাপ, যাতে হারিয়ে না যায় সেই পুরনো আবহ।
বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার হাতে জমি হস্তান্তরও হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার আট কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। আচরণবিধি জারির আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও দিন শিলান্যাস করতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
আগুনে পুড়ে যাওয়ার আগে বাংলোতে ছিল আটটি কক্ষ। পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রেও সেই সংখ্যাই বজায় রাখা হবে। সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে কংক্রিট নির্মাণে আইনি বিধিনিষেধ থাকায় বিশেষ প্রকৌশল কৌশল প্রয়োগ করা হবে। ভিতরে শক্তপোক্ত কাঠামো, বাইরে কাঠের নান্দনিক রূপ—এই দ্বৈত পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হতে চলেছে। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নিরোধী ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
নতুন বাংলো বাণিজ্যিক পর্যটনের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে পর্যটন মহল আশাবাদী। ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে হলং ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডুয়ার্সের সেই ঐতিহাসিক ঠিকানা নতুন রূপে ফিরতে চলেছে। ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে যদি পরিকল্পনা সফল হয়, তবে হলং বনবাংলো আবারও উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে—এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.