বিধানসভা ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। সোমবার Amit Shah-র সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—রাজ্যে CAA বাস্তবায়নে প্রশাসনিক অগ্রগতি শীঘ্রই দেখা যাবে। তার পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে পশ্চিমবঙ্গে ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের ঘোষণা করল।
এই কমিটিই CAA-র আওতায় জমা পড়া নাগরিকত্বের আবেদন খতিয়ে দেখে অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে ভোটের আগে বিশেষত মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব নীতিশ কুমার ব্যাসের জারি করা নির্দেশে জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬বি ধারা এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯ অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান থাকবেন ডিরেক্টরেট অব সেন্সাস অপারেশনস, পশ্চিমবঙ্গের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। সদস্য হিসেবে থাকবেন সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার এক আধিকারিক, ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের মনোনীত প্রতিনিধি, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার (আন্ডার সেক্রেটারির নিচে নয়) এবং পোস্টমাস্টার জেনারেল বা তাঁর মনোনীত ডাক বিভাগের আধিকারিক। আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের প্রতিনিধি।
কেন্দ্রের দাবি, গত ১১ মার্চ ২০২৪-এ সারা দেশে যে কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল, রাজ্যস্তরে তা কার্যকর করতে এই এমপাওয়ার্ড কমিটি ছিল অপরিহার্য। এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গে CAA বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ হল।
CAA অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-র আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা নির্যাতিত অমুসলিম শরণার্থীরা—হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান—ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। তবে রাজ্যের শাসক দল All India Trinamool Congress দীর্ঘদিন ধরেই এই আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে আসছে।
ভোটের আগে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এবং মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এর নির্বাচনী অভিঘাতই আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।







