পর্দাফাঁস আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াতি চক্রের
সারা জীবন ব্যাঙ্কে কাজ করেছেন। অবসর নিয়েছেন ম্যানেজার হিসেবে। অথচ শেষ পর্যন্ত সাইবার প্রতারণার জাল এড়াতে পারলেন না গড়ফার এক প্রবীণ বাসিন্দা। একটি ফেসবুক বিজ্ঞাপন— আর তাতেই মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত একটি তথাকথিত ‘পেনশন কার্ড’-এর বিজ্ঞাপন থেকে। অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রলোভন দেখানো সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেন তিনি। সন্দেহ করার মতো বেশ কিছু লক্ষণ থাকলেও তা নজরে পড়েনি।
ক্লিক করার কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এক ব্যক্তি, নিজেকে একটি নামী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়। জানানো হয়, ‘পেনশন কার্ড’ পেতে হলে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে — যার নাম ছিল
“____ Pensions Card Dispatch for Ex Employee & Retired Manager”।
নামের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লেও তা গুরুত্ব দেননি অভিযোগকারী।
APK ফাইলেই সর্বনাশ
ডাউনলোড করা অ্যাপটি আসলে ছিল একটি APK (Android Package Kit) ফাইল — যা ইনস্টল করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতারকদের হাতে চলে যায় তাঁর মোবাইলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
ফোনের ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, ওটিপি, এসএমএস — সবকিছুর অ্যাক্সেস পেয়ে যায় জালিয়াতরা।
এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
তদন্তে নেমে জাল ভাঙল পুলিশ
ঘটনাটি ঘটে চলতি মাসের ৭ তারিখে। অভিযোগ দায়েরের পর তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সাইবার অপরাধ দমন শাখা।
প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ডিজিটাল নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের পর উঠে আসে এক সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের সন্ধান।
২৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়:
সায়ন রাজবংশী
অরিন্দম দাস
শৌভিক ব্যাপারী
অর্পণ দাস
তদন্তে জানা যায়, এরা মূল চক্রের সিনিয়র সদস্যদের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সিম কার্ড জোগাড় করত।
পরে এন্টালি থানার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়:
দিলদার আনসারি
অনীশ সরকার
উদ্ধার বিপুল সামগ্রী
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতরা ঝাড়খণ্ডভিত্তিক একটি আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে:
১৬টি মোবাইল ফোন
১০টি সক্রিয় সিম কার্ড
ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি
একাধিক এটিএম কার্ড ও চেকবই
প্রায় ৮ লক্ষ টাকা নগদ
সোনার গয়না
দামী ঘড়ি
গাড়ি
তদন্ত চলছে
পুলিশ সূত্রে খবর, চক্রটির শিকড় আরও গভীরে। মূল হোতাদের ধরতে তদন্ত জারি রয়েছে।
সতর্কবার্তা একটাই —
অপরিচিত অ্যাপ, বিশেষ করে APK ফাইল ডাউনলোড করা মানেই নিজের ফোনের নিয়ন্ত্রণ অজানা কারও হাতে তুলে দেওয়া।
এই চক্র সম্পূর্ণ ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেই জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।







