বিশ্ব

ইরান–ইজরায়েল সংঘাত তীব্রতর: IRGC-র মিসাইল দাবির পর কড়া বার্তা নেতানিয়াহুর, যুদ্ধবিরতির আহ্বান মোদীর

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা চরমে। Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC)-এর ‘সারপ্রাইজ’ ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার দাবি এবং তা ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তেল আভিভে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিতকরণ মেলেনি, তবু পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নিচ্ছে।
এই আবহেই কড়া বার্তা দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান শুধু আরব বিশ্ব নয়, ইউরোপের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তাঁর দাবি, চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্যই হল এই ‘অস্তিত্বের সংকট’ দূর করা।
নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন এমন এক স্থানে দাঁড়িয়ে, যেখানে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁর অভিযোগ, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ নাগরিকদের নিশানা করছে—যা ‘সন্ত্রাসবাদী মানসিকতা’র বহিঃপ্রকাশ।
‘অপারেশন রোরিং লায়ন’: মার্কিন সমর্থনে কড়া অবস্থান
ইজরায়েলের তরফে শুরু হওয়া ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু জানান, এটি কেবল ইজরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার অভিযান নয়; বরং বৈশ্বিক হুমকি প্রতিরোধের বৃহত্তর প্রয়াস। তিনি বলেন, এই অভিযানে তাদের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সমর্থনের কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইজরায়েল ও আমেরিকা মিলিতভাবে এমন এক শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, যা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একটি পারমাণবিক শক্তিধর ইরান গোটা মানবতার জন্যই হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের শীর্ষ কর্তা Pete Hegseth এই অভিযানকে ‘স্পষ্ট, ধ্বংসাত্মক এবং নির্ণায়ক’ মিশন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, শান্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইরান আলোচনায় না গিয়ে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে।
মোদী–নেতানিয়াহু ফোনালাপ: নাগরিক সুরক্ষায় জোর
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ফোনে কথা বলেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। সামাজিক মাধ্যম ‘X’-এ মোদী জানান, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান–ইজরায়েল সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার নেয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা পশ্চিম এশিয়া তথা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক জোটরাজনীতির জটিল সমীকরণ এই সংকটকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। সরকারি বিবৃতি ও পাল্টা দাবির ভিড়ে প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। তবে আপাতত স্পষ্ট—পশ্চিম এশিয়ার আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.