গাজা উপত্যকাকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে আপাতত সতর্ক অবস্থান নিল ভারত। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছে নয়াদিল্লি। তবে ১৯ ফেব্রুয়ারির প্রস্তাবিত প্রথম বৈঠকে ভারত অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানাল বিদেশমন্ত্রক।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “মার্কিন সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি। প্রস্তাবটি বর্তমানে বিবেচনাধীন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
ভারতের সতর্ক সুর
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রশ্নে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। জয়সওয়াল মনে করিয়ে দেন, গাজা-সহ গোটা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে কোনও গঠনমূলক উদ্যোগকে ভারত স্বাগত জানায়। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই কাঠামোয় সরাসরি অঙ্গীকারের আগে কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিকগুলি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভারতের এই ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—গাজা প্রশ্নে দিল্লি কোনও তড়িঘড়ি পদক্ষেপে যেতে নারাজ।
কী এই ‘বোর্ড অব পিস’?
‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের কথা বলা হয়েছে United Nations Security Council-এর রেজোলিউশন ২৮০৩-এর প্রেক্ষিতে। প্রস্তাবে গাজার প্রশাসন, পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা তদারকির জন্য একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ডের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ গঠন করা হতে পারে, যা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে ভূমিকা নেবে।
কারা রয়েছেন ট্রাম্পের বোর্ডে?
বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে আমেরিকা। প্রতিষ্ঠাতা এক্সিকিউটিভ বোর্ডে রয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব—
মার্কিন বিদেশসচিব Marco Rubio
ট্রাম্পের বিশেষ দূত Steve Witkoff
প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Tony Blair
বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট Ajay Banga
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা Jared Kushner
বিনিয়োগকারী Marc Rowan
মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সহায়তার জন্য আলাদা ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ও রাখা হয়েছে।
কোন কোন দেশ রাজি?
সৌদি আরব, মিশর, কাতার, তুরস্ক, জর্ডন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ একাধিক দেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। মরক্কো, বাহরাইন ও ইজরায়েলও অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়েছে।
প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যার মধ্যে ২৭টির বেশি দেশ ইতিমধ্যেই যোগদানে আগ্রহ দেখিয়েছে।
পশ্চিমের সংশয়
ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন ও স্পেনের মতো বড় পশ্চিমি শক্তিগুলি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কেউ কেউ সরাসরি সরে দাঁড়িয়েছে বলেও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এতে স্পষ্ট—মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মতভেদ রয়ে গেছে।
ভারতের সামনে কূটনৈতিক সমীকরণ
গাজা ইস্যুতে ভারতের নীতি ঐতিহাসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ—একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক, অন্যদিকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে দীর্ঘদিনের সমর্থন। ফলে ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়া বা না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল প্রতীকী নয়, বরং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া নীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
১৯ ফেব্রুয়ারির প্রথম বৈঠকের আগে নয়াদিল্লি কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের নজরে।







