রায়দিঘি আবারও রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সোমবার বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মথুরাপুরে সভা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। সেখান থেকে শাসকদল All India Trinamool Congress-কে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। আর সেই একই মঞ্চ-রাজনীতির জবাব দিতেই আগামী ৮ মার্চ রায়দিঘিতে সভা করতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee—এমনই দলীয় সূত্রের খবর। বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে এই পাল্টাপাল্টি শক্তি প্রদর্শন নতুন মাত্রা যোগ করল রাজ্য রাজনীতিতে।
‘দিদির নয়, ভাইপোর শাসন’—শাহর তীর
রায়দিঘির সভা থেকে অমিত শাহের মন্তব্য, “এবার তৃণমূলকে ভোট দিলে বড় ভুল করবেন। দিদির নয়, ভাইপোর শাসন হবে।” তাঁর ইঙ্গিত যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে, তা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র বিরুদ্ধে ‘পরিবারতন্ত্র’-এর অভিযোগ তুলে শাহ দাবি করেন, বিজেপিতে সাধারণ কর্মীও একদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন—এই সংস্কৃতি একমাত্র তাদের দলেই আছে।
দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ইস্যু—একাধিক প্রশ্নে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘ভাইপোর শাসন’ প্রসঙ্গই, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজাকে তীব্র করেছে।
মসজিদ ইস্যুতে কড়া সমালোচনা
তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক Humayun Kabir-এর উদ্যোগে মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গেও সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর পিছনে মুখ্যমন্ত্রীর মদত রয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
পাল্টা মঞ্চে অভিষেকের পরিসংখ্যান-রাজনীতি
এদিনই দলের এসসি, এসটি ও ওবিসি সেলের ‘তফসিলির সংলাপ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, তপশিলি জাতির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় শীর্ষে Uttar Pradesh, এরপর Rajasthan ও Madhya Pradesh—“তিনটেই ডবল ইঞ্জিন সরকার,” কটাক্ষ তাঁর।
আদিবাসীদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে Manipur-এ, তারপর মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে—এই বার্তাই স্পষ্ট করতে চান তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড।
নির্বাচন-পূর্ব উত্তাপ বাড়ছে
সব মিলিয়ে, রায়দিঘিকে ঘিরে বিজেপি-তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি সভা কার্যত নির্বাচন-পূর্ব শক্তি-প্রদর্শনের মহড়া। একদিকে অমিত শাহের পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ, অন্যদিকে অভিষেকের পরিসংখ্যান-ভিত্তিক পাল্টা আক্রমণ—২০২৬-এর আগে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।







