মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দুবাইয়ে। যুদ্ধের জেরে বিপর্যস্ত জনজীবনের পাশাপাশি ধাক্কা খাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পও। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসায়।
বিশ্বের ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বপ্নের গন্তব্য। বিলাসবহুল হোটেল, রাজকীয় খাবার, স্কাই ডাইভিং, মরুভূমি সাফারি—সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই শহর। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই পর্যটন ব্যবসাতেই দেখা দিয়েছে বড়সড় ধাক্কা।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ের আকাশে মাঝেমধ্যেই শোনা যাচ্ছে মিসাইলের শব্দ। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পর্যটকদের মধ্যে। এর জেরে নতুন বুকিং প্রায় বন্ধের মুখে। গত সপ্তাহেই হোটেল বুকিংয়ের হার নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে, আর চলতি সপ্তাহে সেই হার আরও কমতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে হু হু করে পড়েছে পাঁচতারা হোটেলের ভাড়া। কোথাও কোথাও বিলাসবহুল হোটেলের ঘরের দাম এক লাফে নেমে এসেছে প্রায় তিনভাগের এক ভাগে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে দুবাইয়ের জনপ্রিয় লাক্সারি রিসর্ট ফাইভ পাম জুমেইরা-কে। সাধারণত যেখানে একটি ঘরের ভাড়া থাকে প্রায় ১০০০ দিরহাম, বর্তমানে সেটাই কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৯ দিরহামে। এই মূল্যের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে রুমের পাশাপাশি স্পা পরিষেবা এবং খাবারের সুবিধাও।
অন্যদিকে তাজ জুমেইরা-র মতো পাঁচতারা হোটেলে এখন এক রাত থাকার খরচ পড়ছে প্রায় ৭,২১৯ টাকা, সঙ্গে প্রায় ২,১২৪ টাকা ট্যাক্স। সাংরি-লা দুবাই-এ রুমের ভাড়া নেমে এসেছে প্রায় ১৩ হাজার টাকায়। তাজ দুবাই-এ যেখানে সাধারণ সময়ে একটি রুমের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি থাকে, সেখানে এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১২ হাজার টাকায়।
এছাড়া হায়াত রিজেন্সি দুবাই-এ মাত্র ৫ হাজার টাকা খরচ করলেই রাত কাটানো যাচ্ছে। গ্র্যান্ড হায়াত দুবাই রিসর্ট-এও ভাড়া কমে নেমে এসেছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দুবাইয়ে পর্যটকের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এবারের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সেই চেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পর্যটকের অভাবে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে দুবাইয়ের হোটেল ও পর্যটন ব্যবসা।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই ধাক্কা আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।







