নিজস্বসংবাদদাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বড়সড় রদবদল। একদিকে Mamata Banerjee-র ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে Suvendu Adhikari-কে। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে তাঁর মোকাবিলায় তৃণমূল কংগ্রেস চমক দিয়ে বেছে নিয়েছে স্থানীয় সংগঠক মুখ Pabitra Kar-কে।
ভবানীপুরে ‘হেভিওয়েট’ সংঘর্ষ
সোমবার নয়াদিল্লি থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে বিজেপি জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর গড় ভবানীপুরেই লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পর এবার শহুরে কেন্দ্রে এই মুখোমুখি লড়াই স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কেন্দ্রে লড়াই শুধু দুই প্রার্থীর নয়, বরং দুই রাজনৈতিক দর্শনের।
নন্দীগ্রামে ‘গ্রাউন্ড কানেক্ট’-এর উপর ভরসা
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে থেকেই জল্পনা ছিল—শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কি কোনও হেভিওয়েট নামানো হবে? সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দল বেছে নেয় পবিত্র করকে, যিনি একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন এবং পরে বিজেপির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রার্থী ঘোষণার ঠিক আগে Abhishek Banerjee-র হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন পবিত্র। দলীয় সূত্রের দাবি, নন্দীগ্রামের প্রতিটি বুথ, অঞ্চল এবং সামাজিক সমীকরণ সম্পর্কে তাঁর গভীর ধারণাই তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে।
‘জায়েন্ট কিলার’ তত্ত্বে তৃণমূল
তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতৃত্বের কথায়, “সব লড়াইয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী নামানোই শেষ কথা নয়। রাজনীতিতে ‘জায়েন্ট কিলার’ বলে একটা বাস্তবতা আছে।” দলের যুক্তি, পবিত্র কর স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সংগঠনভিত্তিক রাজনীতিতে দক্ষ—এই দুইয়ের সংমিশ্রণই নন্দীগ্রামে কার্যকর হতে পারে।
বিকল্প ভাবনায় রাজীব, শেষমেশ সংগঠনের মুখ
দলীয় অন্দরে একসময় প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও আলোচনায় ছিল। তবে তাঁর অনাগ্রহের জেরে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় নেতৃত্বের উপরেই আস্থা রাখে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট—দল এবার ‘লোকাল কানেক্ট’কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এপিসেন্টার বদলাচ্ছে?
২০১১-র পর থেকে নন্দীগ্রাম বহুবার রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতীক হয়েছে। বিশেষ করে গত নির্বাচনে Mamata Banerjee বনাম Suvendu Adhikari লড়াই ছিল সবচেয়ে আলোচিত। তবে এবারে সেই সমীকরণ বদলে গিয়ে রাজনৈতিক ‘এপিসেন্টার’ সরে আসছে ভবানীপুরে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামনে কোন সমীকরণ?
নন্দীগ্রামে যেখানে সংগঠন বনাম ব্যক্তিত্বের লড়াই, সেখানে ভবানীপুরে সরাসরি দুই হেভিওয়েটের মুখোমুখি সংঘর্ষ। ফলে ২০২৬-এর ভোটে দুই কেন্দ্রই আলাদা রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে চলেছে—একটি গ্রামীণ মাটির, অন্যটি শহুরে ক্ষমতার কেন্দ্র।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুই লড়াইয়ের ফলাফলই অনেকাংশে ঠিক করে দিতে পারে রাজ্যের আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ।







