রাজ্যে West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন কড়াকড়ির পথে হাঁটল Election Commission। শুধু বুথ চত্বর নয়, ভোট দিতে যাওয়ার পথেও যদি কোনও ভোটারকে ভয় দেখানো হয় বা বাধা দেওয়া হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচনের (‘রিপোল’) সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে— এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal।
বুধবার রাত পর্যন্ত কমিশনের সর্বশেষ আপডেটে স্পষ্ট, এবারের নির্বাচনে কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভয় দেখালেই রিপোল
এতদিন সাধারণ ধারণা ছিল, বুথ বা তার ১০০ মিটারের মধ্যে গোলমাল হলেই কেবল পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এবার সেই সীমারেখা ভেঙে দিয়েছে কমিশন। ভোটার যদি বুথে যাওয়ার আগেই হুমকি বা বাধার মুখে পড়েন, এবং তার যথেষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে সেই বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হতে পারে।
এই কড়া অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে Dilip Ghosh-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে দিল্লিতে কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি
ভোটারদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গঠন করেছে কমিশন। সিইও দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়ে তৈরি এই টিমের লক্ষ্য— অভিযোগ পাওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া।
ভোটারদের জন্য চালু করা হয়েছে টোল-ফ্রি নম্বর ১৯৫০। প্রয়োজনে নবান্নের কাছেও অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের কড়া নজর
নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে পৌঁছতে শুরু করেছেন কয়েকশো কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক। আগামীকাল থেকেই তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপে নজর থাকবে তাঁদের।
গিরীশ পার্ক ইস্যুতে অসন্তোষ
সাম্প্রতিক গিরীশ পার্ক অশান্তি নিয়ে কলকাতা পুলিশের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। ওই রিপোর্টকে ‘অসম্পূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ফের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন মোতায়েন করা হয়নি— এই প্রশ্নগুলিরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা আপডেটে জোর
বিচারাধীন থাকা ভোটার তালিকার জটও দ্রুত কাটানোর চেষ্টা চলছে। বুধবার রাত পর্যন্ত ২৩ লক্ষের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী শুক্রবার প্রকাশিত হতে পারে প্রথম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ ভোটার তালিকা, যেখানে সংযোজন ও বিয়োজন— দুই-ই থাকবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তালিকাতেই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজার নাম, ফলে তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটতে চলেছে।
সিইও-র জেলা সফর
প্রথম দফার ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সফরে যাচ্ছেন সিইও নিজে। আইনশৃঙ্খলার গ্রাউন্ড রিপোর্ট পর্যালোচনা করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে, ৪ মে ফল ঘোষণার আগে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ নির্বাচন কমিশন— এমনই বার্তা স্পষ্ট করে দিল এই প্রস্তুতি।







