নয়াদিল্লি: Supreme Court of India-এ আই-প্যাক তল্লাশি মামলার শুনানিতে বুধবার তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ল Mamata Banerjee-র সরকার। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেন, তা “সুখকর পরিস্থিতি” নয় এবং এর প্রতিকার থাকা আবশ্যক।
West Bengal Assembly Election 2026-এর ঠিক আগে এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিচারপতি Prashant Kumar Mishra এবং N. V. Anjaria-র বেঞ্চে এদিন শুনানির সময় আদালত প্রশ্ন তোলে—যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তদন্তে বাধা দেন, তবে তার প্রতিকার কী? ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা উচিত নয়? আদালতের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, বিষয়টি বৃহত্তর সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত।
কী এই আই-প্যাক মামলা?
ঘটনার সূত্রপাত ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে Enforcement Directorate কলকাতায় আই-প্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্তা Prateek Jain-এর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং কিছু নথি, ল্যাপটপ ও মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে সল্টলেকের অফিস থেকেও ফাইল সরানোর অভিযোগ ওঠে।
ইডি এই ঘটনাকে “ক্ষমতার চরম অপব্যবহার” বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি সুরক্ষার জন্যই তিনি পদক্ষেপ নেন।
আদালতে টানটান আইনি লড়াই
শুনানির শুরুতেই রাজ্যের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে তা খারিজ করে দেয় আদালত। সলিসিটর জেনারেল Tushar Mehta-র যুক্তি, এটি সময় নষ্টের কৌশল মাত্র। আদালতও এতে সায় দিয়ে জানায়, রেকর্ডে থাকা সব নথিই বিবেচনায় নেওয়া হবে।
রাজ্যের তরফে সিনিয়র আইনজীবী Shyam Divan যুক্তি দেন, ইডি কোনও স্বতন্ত্র আইনি সত্তা নয়, ফলে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে তারা সরাসরি মামলা করতে পারে না। এতে দেশের ফেডারেল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে Kapil Sibal বলেন, তদন্ত পরিচালনা করা কোনও মৌলিক অধিকার নয়, ফলে ইডি আদালতের কাছে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাওয়ার অধিকার রাখে না।
বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্ন
সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি তল্লাশি সংক্রান্ত নয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা, রাজ্যের ভূমিকা এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা—সব মিলিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।
পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, এই মামলা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।







