পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান–ইজরায়েল–মার্কিন সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বুধবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সংসদ ভবনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকে। বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকার জানায়—বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্য, ডিজেল এবং এলপিজির কোনও তাত্ক্ষণিক সঙ্কট নেই; পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
সরকারের অবস্থান: ‘উদ্বেগের কারণ নেই’
সরকারি সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতিমধ্যেই ভারতের পথে। ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বৈঠকে জানান—দেশের প্রায় ৬০% এলপিজি চাহিদা দেশীয় উৎপাদনেই পূরণ হয়, বাকি অংশ আমদানির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রসঙ্গে বলেন, ইসলামাবাদ বহু দশক ধরেই এই ভূমিকা পালন করে এসেছে, তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
বিরোধীদের প্রশ্ন: সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা চাই
বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিস্তারিত আলোচনা চেয়েছে।
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, সরকার যে ধরণের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দিয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়—সম্পূর্ণ বিষয়টি সংসদেই আলোচনা হওয়া উচিত।
রাহুল গান্ধী কেরালায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তৃণমূল কংগ্রেসও অনুপস্থিত ছিল, দলের কোনও প্রতিনিধি দিল্লিতে না থাকার কারণে।
বিরোধীদের প্রধান প্রশ্ন—সংঘাত আরও তীব্র হলে তেল মজুত, এলপিজি সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের জ্বালানি চাহিদা কীভাবে সামলাবে সরকার?
মোদীর সতর্কবার্তা: “প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে”
বৈঠকের আগে সংসদের উভয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে ‘দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে’ বলে সতর্ক করেন।
সরকার ইতিমধ্যেই জ্বালানি, সার, বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল ও লজিস্টিকস–সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নজরদারির জন্য সাতটি বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করেছে।
রাজনৈতিক বার্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য
ইরান–মার্কিন উত্তেজনা চরমে থাকায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় সর্বদল বৈঠককে কেন্দ্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে, বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে; অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছে যে ভারতের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও কেন্দ্রীয় সরকারের বার্তা পরিষ্কার—ভারতের জ্বালানি সরবরাহে কোনও তাৎক্ষণিক সঙ্কট নেই; প্রস্তুতি এবং নজরদারি দু’দিকই শক্তিশালী।







