বিধানসভা ভোটের মাস কয়েক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে। তার মধ্যেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র— ফর্ম-৬—কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মঙ্গলবার এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের দফতরের সামনে বিক্ষোভ সংঘর্ষের রূপ নেয়।
অভিষেকের অভিযোগেই উত্তাপের সূত্রপাত
সূত্রপাত সোমবার। সেদিনই কমিশনের দফতরে গিয়ে ফর্ম-৬ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ–যোগ হচ্ছে।”
সেই অভিযোগের পরেই মঙ্গলবার সকাল থেকেই কমিশনের দফতরের সামনে জমায়েত হন তৃণমূলপন্থী বুথ কর্মীরা।
“সারা বছর ফর্ম-৬ জমা দেওয়া যায়”— পাল্টা CEO
বিক্ষোভের আবহেই কঠোর অবস্থান নেন CEO মনোজ আগরওয়াল।
তিনি স্পষ্ট জানান—
ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, বছরভরই প্রক্রিয়া খোলা।
অভিযোগের নিষ্পত্তি ভোটের আগে করা সম্ভব নয়, কারণ পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইন।
অফলাইনে পড়া আবেদনকেও প্রথমে ডিজিটাল করতে হয়।
শাসকদলের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে তিনি আরও মন্তব্য করেন—
“কোনও ইআরও বা অন্য কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন আমি প্রভাবিত হয়ে কাজ করেছি, আমি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করব।”
বিক্ষোভের মাঝে সংঘর্ষ, মুখোমুখি TMC–BJP
এদিন তৃণমূলের বিক্ষোভ চলাকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিজেপির একদল কর্মী। শুরু হয় অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ, স্লোগান–পাল্টা স্লোগান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উপস্থিত পুলিশকে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এলাকায় মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
CEO-র অসন্তোষ, পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন
ঘটনার পর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁর বক্তব্য—
দফতরের সামনে কোনও গোলমাল হলে নিয়ন্ত্রণের দায় পুলিশের।
এলাকায় বিশেষ আইনজারি রয়েছে।
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই হবে।”
ভোটের আগেই অস্থিরতা বাড়ছে
ফর্ম-৬ ইস্যুতে এভাবে সংঘর্ষ ছড়ানোয় রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভোটের আগে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলির এই টানাপড়েন— আগামী দিনে কোনদিকে মোড় নেবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।







