অসহ্য গরমের দাপটের মধ্যেই রাজ্যবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি ও কালবৈশাখী হতে পারে। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
কেন এই আবহাওয়ার বদল?
মৌসম দফতর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তেলঙ্গনা পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এই দু’য়ের যৌথ প্রভাবে রাজ্যজুড়ে অস্থির আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বেশি প্রভাব
ঝড়বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পুরুলিয়া, বীরভূম, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম ও দুই মেদিনীপুরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭ ও ৮ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও একই চিত্র
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও কালিম্পং এলাকাতেও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ৮ এপ্রিল কিছু জেলায় শিলাবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তাপমাত্রা কমবে ৩–৫ ডিগ্রি
ঝড়বৃষ্টির জেরে আগামী চার দিনে দিনের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরে তাপমাত্রা ফের বাড়তে পারে।
দফতরের সতর্কতা
বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ।
কাঁচা বাড়ি ও অস্থায়ী কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা ও যানজটের আশঙ্কা।
শহরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ট্রাফিকের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সমুদ্র উপকূলে বিশেষ সতর্কতা
৭ ও ৮ এপ্রিল উপকূলীয় এলাকায় ৪০–৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে এই দুই দিনে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার খামখেয়ালি রূপে সতর্ক থাকতে বলছে আবহাওয়া দফতর।







