শুক্রবার গুয়াহাটির বারসাপারা স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল ২০২৬–এর প্রথম পরাজয়ের স্বাদ চাখাল রাজস্থান রয়্যালস। ধ্রুব জুরেল ও বৈভব সূর্যবংশীর অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ভর করে ২০১ রানের লক্ষ্য অনায়াসে টপকে যায় সঞ্জু স্যামসনের দল।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আরসিবি। পিচে বৃষ্টিজনিত স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থেকে পাওয়া অতিরিক্ত বাউন্সে বিপাকে পড়েন ফিল সল্ট ও দেবদত্ত পাডিক্কল—দু’জনকেই ফেরান জোফরা আর্চার। শুরু থেকেই সামান্য সমস্যা থাকলেও বিরাট কোহলি (৩২ বলে ১৬) সাতটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের গতি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু রবি বিষ্ণোইয়ের পরিবর্তিত রান-আপ ও সূক্ষ্ম গুগলিতে ইনসাইড-আউট শট খেলতে গিয়ে কভার দিয়ে ধরা পড়েন তিনি। সেখান থেকেই ধস নামে ব্যাটিং অর্ডারে।
বিষ্ণোই ফেরান ক্রুনাল পান্ডিয়াকে, আর বেঙ্গল প্রিমিয়ার লিগ থেকে উঠে আসা তরুণ ব্রিজেশ শর্মা দ্রুত পরপর উইকেট তুলে নিয়ে আরসিবিকে ৭৬/৫ চাপে ফেলে দেন। রোমারিও শেফার্ড ১২তম ওভারে দলের প্রথম ছক্কা মারলেও দিকভ্রান্ত হয়ে পড়া ইনিংসকে ধরতে পারেননি।
একাই লড়াই চালিয়ে যান রাজত পাতিদার। ৪০ বলে ৬৩ রানের ইনিংস সাজান চারটি ছক্কা ও চারটি বাউন্ডারিতে। বিষ্ণোইকে নাচিয়ে ছক্কা মারার শট ছিল ইনিংসের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। শেষদিকে ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৫ বলে ২৯ রান করেন, স্যান্ডিপ শর্মার শেষ ওভারে ২১ রান তুলে স্কোরকে ২০০–র গণ্ডি পেরোতে সাহায্য করেন। তবে নির্ধারিত ওভারে ২০১/৮–এ থেমে যায় আরসিবি—প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অন্তত ২৫ রান কমই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জবাবে রাজস্থানের ব্যাটিং ছিল ঠান্ডা মাথার। জুরেল–সূর্যবংশীর জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি তুলে নিয়ে চাপমুক্ত ইনিংস গড়ে তোলেন দু’জন। আরসিবির বোলারদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্রেকথ্রু এনে দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হারের মুখ দেখতেই হয় ফাফ ডু প্লেসিসদের।
প্রতিযোগিতার শুরুতেই রাজস্থানের দাপট আর আরসিবির প্রথম ধাক্কা—আইপিএল ২০২৬–এর পয়েন্ট টেবিলে হিসেব–নিকেশে যে নাটকীয়তা তৈরি করবে, তা বলাই যায়।







