জলপাইগুড়ি, শনিবার: ভোট প্রচারে গিয়ে তিস্তা নদীর চরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নদীর স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক বিজেপি কর্মী। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম অমল রায় (৩৫)। তিনি ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের হেলাপাকড়ি সংলগ্ন বৈকুর গৌর গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে প্রায় ১৫–২০ জন বিজেপি কর্মীর একটি দল হেলাপাকড়ি এলাকা থেকে তিস্তা নদী পার হয়ে ফুলিয়ার চরে ভোট প্রচারে যান। প্রচার শেষে সন্ধ্যার দিকে ফেরার সময় বেশিরভাগ কর্মী নৌকায় করে নদী পার হন। তবে অমল রায় সহ তিনজন কর্মী পায়ে হেঁটে নদী পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নদীর মাঝপথে আচমকাই প্রবল স্রোতে পড়ে যান অমল রায়। বাকি দুই সঙ্গী কোনওরকমে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অমল স্রোতে তলিয়ে যান। তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। রাতভর তল্লাশি চালানো হলেও নিখোঁজ কর্মীর সন্ধান মেলেনি। শনিবার সকালেও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ময়নাগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রামমোহন রায়। পাশাপাশি বিজেপি নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে যান। নিখোঁজ অমল রায়ের বাবা দীনেশ রায় জানান, “ভোট প্রচার থেকে ফেরার সময় ছেলে নদীতে তলিয়ে গেছে। কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও কোনও খোঁজ নেই।”
তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায় বলেন, “খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছি। একজন মা তাঁর ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা কী, তা আমি বুঝি। পরিবারের পাশে সবসময় থাকব।”
শনিবার সকালে অমল রায়ের বাড়িতে যান বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায় সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কর্মীর কোনও সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না এবং যত দ্রুত সম্ভব নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পেতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।







