জল্পনা চলছিলই। সোমবার সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর পড়ার ইঙ্গিত মিলল। আইএসএফ ছেড়ে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরের দিকে পা বাড়াতে পারেন আরাবুল ইসলাম। সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে দেখা যায় ভাঙড়ের এই ‘তাজা’ নেতাকে। তাঁর এই উপস্থিতি ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। সেই সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করলেও দল তাঁকে বারবার অপমান করেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ভোটের ফল প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই নওশাদ সিদ্দিকির দলের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন আরাবুল।
আইএসএফ ছাড়ার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, পুরনো দল তৃণমূলে হয়তো ফেরত যেতে পারেন তিনি। তবে সেই প্রত্যাবর্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরে হবে, নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে—তা নিয়ে সংশয় ছিল। সোমবারের ঘটনার পর সেই জল্পনার অনেকটাই অবসান হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। একে একে একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে পৃথক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। সেই পরিস্থিতিতে এবার আরাবুল ইসলামকেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গেল। আগামী দিনে এই শিবিরে ভাঙড়ের প্রভাবশালী নেতার ভূমিকা কী হয়, সেটাই এখন দেখার।
অন্যদিকে, আইএসএফ ছাড়ার সময় নওশাদের দলের বিরুদ্ধে সরাসরি একনায়কতন্ত্র চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন আরাবুল। তাঁর দাবি ছিল, ভাঙড়জুড়ে দলের লুম্পেনবাহিনী সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। সেই ব্যবস্থার প্রতিবাদেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
আরাবুলের দলত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নওশাদও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও আরাবুলের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন না। রূপকের মাধ্যমে নওশাদ বোঝাতে চেয়েছিলেন, কিছু প্রাণীকে নোংরা জায়গায় মুখ দেওয়া থেকে আটকাতে জাল দিয়ে রাখা হলেও তারা সুযোগ পেলেই ফের সেই জঞ্জালের দিকেই এগিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে পরাজিত করে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। সে সময় বিধানসভায় তৃণমূলের মোট ৩০ জন বিধায়কের মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ার মধ্যেও তৃণমূলের বিদ্রোহী প্রার্থী নান্নু হোসেনের কারণে ভোটে বিভাজন তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সিপিএমের বাদল জমাদারের কাছে পরাজিত হন আরাবুল। এরপর ধীরে ধীরে দলে তাঁর গুরুত্ব কমে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।
এবার আইএসএফ ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেই বেছে নেন কি না, নাকি সোমবারের সাক্ষাৎ শুধুই রাজনৈতিক সৌজন্য—সেদিকেই নজর থাকছে।







