পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে হঠাৎ করেই তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা Indian Political Action Committee (I-PAC)-এর ২০ দিনের ‘ছুটি’ ঘোষণা ঘিরে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে কর্মীদের পাঠানো ইমেলেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আইনি বাধ্যবাধকতা’র কথা বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি নির্বাচনের আগে বড় কোনও কৌশলগত রদবদল?
সেক্টর ফাইভে ‘অন্ধকার’ অফিস, তালাবন্ধ দরজা
সোমবার বিকেলে Salt Lake Sector V-এ আই-প্যাকের দফতরের চিত্র যেন সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল। ১১ তলায় পৌঁছে দেখা গেল, বিশাল ফ্লোর প্রায় অন্ধকারে ঢাকা। কাচের দরজায় তালা, ভিতরে ফাঁকা ডেস্ক—কেবলমাত্র একটি মনিটরে ক্ষীণ আলো।
রিসেপশনের পাশে Mahatma Gandhi-র ছবি, উপরে লেখা—“The best politics is right action।” সেই ছবিতেই একমাত্র স্পটলাইট, আর চারপাশে নিস্তব্ধতা।
যদিও সম্পূর্ণ ফাঁকা নয়। ভিতরে দু’জন কর্মী ও কয়েকজন হাউসকিপিং স্টাফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন। তাঁদের কথায়, “অফিস বন্ধ, পরিষ্কার হলেই চলে যাব।”
ইমেল বনাম মৌখিক বার্তা—দ্বন্দ্বে কর্মীরা
আই-প্যাকের পাঠানো ইমেলে স্পষ্টভাবে ২০ দিনের ‘অপারেশনাল পজ’ বা ছুটির কথা বলা হলেও, সূত্রের দাবি—মৌখিকভাবে কর্মীদের অন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কেউ চাইলে ভোট পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারেন
কেউ চাইলে ছুটি ‘উপভোগ’ করতে পারেন
এই দ্বৈত বার্তায় কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় গাড়ির মতো লজিস্টিক সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূলের অবস্থান—‘ভিত্তিহীন’ দাবি
এই পরিস্থিতির মধ্যে শাসকদল All India Trinamool Congress (তৃণমূল) স্পষ্টভাবে জানায়, আই-প্যাকের কাজ বন্ধের খবর ‘ভিত্তিহীন’। দলের দাবি—
“রাজ্য জুড়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রচার চলছে। বিভ্রান্তি তৈরির জন্য এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে।”
তবে লক্ষণীয়, এই বিবৃতি দলের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে পোস্ট করা হয়নি।
নীরব আই-প্যাক, বাড়ছে প্রশ্ন
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক—আই-প্যাক নিজে এখনও পর্যন্ত এই ইমেল বা ‘ছুটি’ সংক্রান্ত খবর অস্বীকার করেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
যদি ইমেলটি ভুয়ো হত, সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ আসার কথা
নীরবতা বরং ইমেলের সত্যতাকেই শক্তিশালী করছে
নেতৃত্বের আশ্বাস
পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল নেত্রী Mamata Banerjee রবিবার আশ্বাস দিয়েছেন—
“কাউকে চাকরি হারাতে দেব না।”
একই সুর শোনা গেছে রাজ্যসভার সাংসদ Derek O’Brien-এর গলাতেও। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্বশীল দল হিসেবে তৃণমূল কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অতীত সংযোগ, বর্তমান রহস্য
আই-প্যাক অতীতে Narendra Modi-র প্রচার কৌশলেও কাজ করেছে এবং Y. S. Jagan Mohan Reddy-র দল YSR Congress Party-র সঙ্গেও যুক্ত ছিল। ফলে এই সংস্থার হঠাৎ ‘পজ’ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
ভোটের ঠিক আগে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আই-প্যাক কি সত্যিই সাময়িক বিরতিতে, নাকি নেপথ্যে চলছে নতুন কৌশল—তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।
সল্টলেকের জলাভূমির ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অন্ধকার দফতর যেন এখন একটাই প্রশ্ন তুলছে—
এই নীরবতার আড়ালে কী লুকিয়ে আছে?







