২০২৬ সালের West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল সম্ভাব্য রিপোল বা পুনর্নির্বাচন নিয়ে। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিল Election Commission of India (ECI)। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।
কমিশন সূত্রে খবর, মোট ৪৪,৩৭৬টি বুথেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আইনসম্মত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৪ এপ্রিল প্রতিটি কেন্দ্রেই ‘ফর্ম ১৭-এ’ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী নথির বিস্তারিত স্ক্রুটিনি করেন রিটার্নিং অফিসাররা (RO), যাঁদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেনারেল অবজারভাররা (GO)। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন ৬০০-রও বেশি প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম দফার ১,৪৭৮ জন প্রার্থীকেই আগাম স্ক্রুটিনির সময়সূচি জানানো হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে, যাতে কোনও বিতর্কের অবকাশ না থাকে। পরীক্ষার পর সমস্ত নথিপত্র পুনরায় সিলমোহর দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ভোটের পর থেকেই ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিনগুলিকে কড়া নিরাপত্তায় স্ট্রং রুমে রাখা হয়েছে। ডবল-লক ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের দিনে দু’বার নিরাপত্তা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি জেলা নির্বাচন আধিকারিকরাও নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন। এমনকি প্রার্থীদের প্রতিনিধিরাও স্ট্রং রুমের বাইরে অবস্থান করে নজর রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রথম দফায় ৯২.৮৮ শতাংশের রেকর্ড ভোটদান সত্ত্বেও একটিও বুথে রিপোলের প্রয়োজন না হওয়াকে কমিশন বড় সাফল্য বলেই মনে করছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহে এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারিরই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






