স্বাস্থ্য

তিরিশেই সতর্কবার্তা! হার্ট অ্যাটাক ঠেকাতে নতুন গাইডলাইন, বদলে গেল চিকিৎসার মানচিত্র

আগে ধারণা ছিল, হার্ট অ্যাটাক বা ধমনীতে ব্লকেজ মূলত ষাটোর্ধ্বদের সমস্যা। কিন্তু বর্তমান জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং বাড়তে থাকা মানসিক চাপ সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন তিরিশের কোঠাতেই ধরা পড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি— এমনটাই জানাচ্ছে American Heart Association (AHA) এবং American College of Cardiology (ACC)-এর ২০২৬ সালের নতুন গাইডলাইন।

২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোলেস্টেরল ব্যবস্থাপনায় এত বড় পরিবর্তন আনা হল। নতুন নির্দেশিকার মূল বার্তা— “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হার্টকে সুরক্ষিত করুন।”

তিরিশ থেকেই শুরু স্ক্রিনিং
চিকিৎসকদের মতে, ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়, যা দীর্ঘদিন অজান্তেই শরীরের ক্ষতি করে। তাই নতুন গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ৩০ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা শুরু করা জরুরি।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের শরীরে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ (LDL) মাত্রাতিরিক্ত। যা নিঃশব্দে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

শুধু লিপিড প্রোফাইল নয়, আরও দুই পরীক্ষা জরুরি
নতুন নির্দেশিকায় প্রথমবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুটি বিশেষ রক্ত পরীক্ষাকে—

Lipoprotein(a) বা Lp(a): জীবনে অন্তত একবার এই পরীক্ষা করা উচিত। এটি জিনগতভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে সাহায্য করে।

Apolipoprotein B (ApoB): সাধারণ কোলেস্টেরল রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও, এই পরীক্ষা লুকিয়ে থাকা বিপদকে সামনে আনে।

১০ বছর নয়, এখন ৩০ বছরের হিসাব
এতদিন চিকিৎসকেরা আগামী ১০ বছরের হৃদরোগের ঝুঁকি বিচার করতেন। তবে এখন থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ৩০ বছর বয়সী মানুষের ৬০ বছর বয়সে হার্টের অবস্থা কেমন হতে পারে— তা আগেভাগেই বোঝার চেষ্টা করা হবে।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তনই প্রথম প্রতিরোধ
গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,

নিয়মিত শরীরচর্চা

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

ধূমপান ও অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ

—এই তিনটি বিষয়ই হৃদরোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

তবে শুধুমাত্র ডায়েট বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনে কাজ না হলে, ওষুধ শুরু করতেও দেরি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

CAC স্কোরিং: লুকানো বিপদের সন্ধান
নতুন নির্দেশিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার উল্লেখ রয়েছে— Coronary Artery Calcium (CAC) স্কোরিং।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধমনীর মধ্যে ক্যালসিয়াম জমার পরিমাণ জানা যায়, যা ভবিষ্যতের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আন্দাজ করতে সাহায্য করে।

মূল কথা:
এই গাইডলাইন একটাই বার্তা দিচ্ছে—
হার্টের অসুখ একদিনে হয় না, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

তাই তিরিশেই সচেতন হোন। কারণ আজকের অবহেলা আগামী দিনের বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
মনে রাখবেন, “তিরিশে যত্ন না নিলে, ষাটে পৌঁছনোই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.