কলকাতাখেলাধুলা

রাজনৈতিক পালাবদলের পরই ‘গোট ট্যুর’ নিয়ে মুখ খুললেন শতদ্রু , সমাজ মাধ্যমে সাফ বার্তা – এবার সবকিছুর হিসেব হবে !

মাস ছয়েক আগেই , শহরে এসেছিলেন আর্জেন্টাইন রাজপুত্র লিওনেল মেসি । সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো দি’পল । শতদ্রু দত্তের আমন্ত্রণে কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। ১৩ ডিসেম্বর , যুবভারতী স্টেডিয়ামে শো করার কথা ছিল তাঁর । শুরু থেকেই এই হাই ভোল্টেজ ইভেন্ট ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১৮ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও কালোবাজারির কারণে তা বেড়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি এবং হায়দরাবাদ—এই চারটি শহরকে কেন্দ্র করেই আয়োজন করা হয়েছিল ‘গোট ট্যুর’এর। তবে পরিকল্পনা একরকম হলেও বাস্তবে ঘটে ভিন্ন ছবি । বাকি তিনটি শহরে অনুষ্ঠান সফল হলেও কলকাতার শো একেবারেই ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার জেরে আয়োজক শতদ্রু দত্ত গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন সেই শতদ্রু।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখ । দুপুর ১২ টা থেকে থেকে শো ছিল তাঁর । তবে , তিনি কলকাতা ল্যান্ড করার পরে আরও বেশ কিছু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন । সেগুলি সবই সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সাড়ে ১২ টা নাগাদ যুবভারতীতে প্রবেশ করার পরই আসল ঘটনা ঘটে ।

মেসি, সুয়ারেজ ও দি’পলকে কার্যত ঘিরে ধরেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শতাধিক মানুষের ভিড় জমে ওঠে মেসিকে ঘিরে। বারবার শতদ্রু অনুরোধ করলেও কেউই সরে দাঁড়াতে চাননি, ফলে সাধারণ দর্শকরা বঞ্চিত হন। বহু টাকা খরচ করে টিকিট কেটে এসেও সমর্থকরা একবারও মেসিকে দেখতে পাননি। কেউ ধার করে টিকিট কিনেছিলেন, কেউ বা নিজের বিয়ের দিন পিছিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন—তবুও যুবভারতীর প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের কপালে জোটে শুধু হতাশা।

এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা মাঠে নেমে পড়েন যুবভারতী স্টেডিয়ামে। চেয়ার ভাঙা, বারপোস্টের জাল ছেঁড়া—কিছুই বাদ যায়নি। এমনকি অনেককে মাঠের কার্পেট খুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ, এমনকি বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও কলকাতার ‘গোট ট্যুর’ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত দুপুরের মধ্যেই এয়ারপোর্ট থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়।

আর এবার রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ খুললেন শতদ্রু। তিনি সমাজ মাধ্যমে স্টোরি দিয়ে লেখেন , “আমার টিমের কাছে জোর করে অ্যাক্সেস কার্ড চাওয়া হয়েছিল। তারা দিতে না চাওয়ায় তাদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আপনারা স্রেফ আমার ইভেন্ট নষ্ট করেননি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। আমাকে নিয়ে চক্রান্ত করেছেন। আপনাদের জন্য সব সমর্থকেরা হতাশ হয়েছে। আপনাদের জন্যেই আমি ৩৮ দিন জেলে ছিলাম। সবকিছুর হিসেব হবে। আমার সময় এসেছে। ভগবান সব দেখছেন।” তিনি দুটি ছবি পোস্ট করে , আরোও লেখেন , “আমার আর্তনাদ কেউ শোনেনি। পাশে উনি (অরূপ) মজা নিচ্ছিলেন। বারবার বলেছিলাম এখানে ছবি তোলাবেন না। কিন্তু দাদাগিরি করে তুলেছিল। এবার দ্যাখ কেমন লাগে। সব হিসেব দিতে হবে।” এবার কি হিসেব হয় , এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.