দীর্ঘদিনের লুকোচুরির পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) জালে ধরা পড়লেন কুখ্যাত সিন্ডিকেট ডন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। সোমবার সকালে হঠাৎই কলকাতার ইডি দফতরে হাজির হন তিনি। এরপর টানা প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি সূত্রে খবর, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ, তোলাবাজি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে জেরা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পান বলেই দাবি সূত্রের।
এদিন সকালে ইডি দফতরে ঢোকার আগে সোনা পাপ্পু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত থানায় তোলাবাজির একটি অভিযোগও দায়ের হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে রাত বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম বড়ভাবে শিরোনামে আসে সোনা পাপ্পুর নাম। ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোডে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই ঘটনায় গুলিও চলেছিল। এরপরই সামনে আসে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের নাম। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন তিনি।
যদিও আত্মগোপনে থাকলেও মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতেন সোনা পাপ্পু। তদন্ত চলাকালীন তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক Debasish Kumar-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি প্রকাশ্যে আসে, যা রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
এর আগে এই মামলায় ব্যবসায়ী জল কামদার এবং কলকাতা পুলিশের আধিকারিক Shantanu Sinha Biswas-কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এবার সোনা পাপ্পুর গ্রেফতারিতে তদন্তে নতুন মোড় এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







