বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে সই জালিয়াতির অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “অন্যের সই করা অন্যায়। আমি কোনওভাবেই অন্যায়কে সমর্থন করি না, তাতে আমি বিরোধী দলনেতা থাকি বা না থাকি।”
বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবপত্রে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের 8A ধারার আওতায় বিধায়ক পদ খারিজের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিধানসভায় একাধিক বিধায়ককে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম-সহ বিতর্কে নাম জড়ানো কয়েকজন বিধায়ক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে ৭০ জন বিধায়কের সই-সহ একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, ওই নথিতে তাঁদের সই নেই। এরপরই প্রশ্ন ওঠে—তাহলে সই করল কে?
যদিও এই বিতর্কের মধ্যেই শোভনদেব অভিযোগ করেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে “অতি সক্রিয়তা” দেখানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, “৩০ জন সদস্য থাকলেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়া যায়।”
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, শোভনদেবের বক্তব্যে পরোক্ষে সই জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করার ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।







