ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানো হয়েছে। এতদিন তিনি ‘জেড ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা পেতেন, তবে বর্তমান রাজ্য সরকার সেই সুরক্ষা দু’ধাপ কমিয়ে আবার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’তে ফিরিয়ে এনেছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘জেড ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তায় সাধারণত ৩৫ জনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। এর মধ্যে রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষিত কমান্ডো এবং পাইলট কারের ব্যবস্থাও থাকে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে এতদিন ৮ থেকে ১০ জন পুলিশকর্মী ছিলেন। তবে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র সুরক্ষা পেতেন, যেখানে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তিনজন সদস্য তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বাসভবনেও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকতেন। পরে ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড ক্যাটাগরি’ করে।
সরকার বদলের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে সাংসদ হিসেবে নির্ধারিত সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি ঘটনায় জনরোষের মুখে পড়ার পর তাঁকে ‘এক্স ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এছাড়া রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার-সহ তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতার নিরাপত্তাও কমানো হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তাঁদের বিশেষ নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে তাঁকে ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এই শ্রেণির নিরাপত্তায় সাধারণত ৩ থেকে ৪ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন, যার মধ্যে দু’জন সশস্ত্র রক্ষী থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সরকারি নিরাপত্তা কাউকেই দেওয়া হবে না। পাশাপাশি রাজনৈতিক পদে না থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই নীতির ভিত্তিতেই সৌরভের নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।







