জেলা

বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতেই ফুঁসছে তিস্তা, বিপদসীমার কাছে জলস্তর!সীমান্তে সতর্কতা জারি প্রশাসনের

উত্তরবঙ্গে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের পরেই দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে নদীগুলির চেহারা। তার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে তিস্তা নদীর জলস্তর। সিকিম ও পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ায় তিস্তার জল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের অসংরক্ষিত নদী তীরবর্তী এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করে সেচ দপ্তর।

বুধবার রাতে জারি হওয়া সতর্কতা বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাহার করা হলেও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সেচ দপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যার পর নদীর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে ফের সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

এ বছর বর্ষা উত্তরবঙ্গে প্রবেশের আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি হয়েছে। সেচ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি জেলায় ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনও ব্যাহত হয়েছে।

তিস্তার জল বাড়তে শুরু করায় সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন নদী চরাঞ্চলের কৃষকরা। নদীর ধারে চাষ হওয়া ভুট্টা-সহ বিভিন্ন ফসল দ্রুত ঘরে তোলার কাজ শুরু করেছেন অনেকেই। জল আরও বাড়লে কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগ বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে নদীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য ২০টিরও বেশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই তিস্তার এই রূপ আগামী দিনগুলিতে উত্তরবঙ্গের নদী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.