কলকাতা/নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ল। দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ২২-এ পৌঁছেছে বলে দাবি করলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবার দিল্লি রওনা হওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সংসদে আলাদা ব্লক গঠনের দাবি জানাবে তাঁদের শিবির।
কাকলির দাবি, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে যাঁরা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন। যদিও নতুন করে যোগ দেওয়া দুই সাংসদের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়ই সেই নাম সামনে আনা হবে বলে জানান তৃণমূলের এই সাংসদ।
সূত্রের খবর, রবিবার কলকাতায় হওয়ার কথা থাকলেও কৌশলগত কারণে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মালা রায় ও জুন মালিয়া। সোমবার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মপন্থা ঠিক করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি নথি সামনে আসে, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, মালা রায়, জুন মালিয়াসহ একাধিক সাংসদের নাম ছিল। পরে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে জল্পনা তীব্র হয়।
এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিদ্রোহী শিবিরে নাম না থাকা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রতিমা মণ্ডল ও সাজদা আহমেদ। কাকলির দাবি সত্যি হলে, এই তালিকার মধ্য থেকেই আরও দু’জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
সোমবারের বৈঠকের দিকে এখন নজর জাতীয় রাজনীতির। কারণ, সেই বৈঠকের ফলাফল তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।







