কলকাতা

মমতার নিরাপত্তা ঘিরে বিতর্ক: PSO বদলের অভিযোগে সরব তৃণমূল, পাল্টা জবাব বিজেপির

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়ার পরও জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই কেন্দ্র করে এবার শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিনজন PSO-কে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিনজন পুলিশকর্মীকে ডেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় নতুন ও অপরিচিত নিরাপত্তারক্ষী পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দলীয় সূত্রের খবর, বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে আপাতত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে তৃণমূল নেত্রীকে।

ডেরেক ও’ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, নতুন নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি নিজেই গাড়ি দিয়ে বাড়ির গেট আটকে রাখেন। পরে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা এলে তাঁদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।

তবে তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা থেকে কাউকে সরানো হয়নি এবং তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বজায় রয়েছে বলেই দাবি প্রশাসনের।

ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের বদলি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। কে কার PSO হবেন, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব পুলিশের। এতে রাজনৈতিক রং খোঁজার কোনও কারণ নেই বলেই দাবি তাঁর।

অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, এর নেপথ্যে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যদিও সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

এদিকে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির চারপাশে ‘ভিউ কাটার’ বসানো নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে বাড়ির ভিতরে কারা যাতায়াত করছেন তা বাইরে থেকে দেখা না যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূল ও প্রশাসনের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.