রাজনীতি

গুন্ডাদমন বিলের আলোচনায় তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, বক্তব্যই রাখলেন না শোভনদেব

রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে গুন্ডাদমন বিলের আলোচনা ঘিরে ফের প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব। সোমবার বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের মতবিরোধ বিধানসভার অন্দরে তীব্র আকার নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, শাসকদলের বিধায়কদের কটাক্ষ ও ব্যঙ্গের মুখে পড়ে নিজের বক্তব্যই আর পেশ করলেন না প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী শিবিরের নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ ছিল। সেই অনুযায়ী বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের দফতর থেকে যাঁদের বক্তব্য রাখার কথা, তাঁদের তালিকা বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের তরফে জমা দেওয়া ওই তালিকায় কালীঘাটপন্থী নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সূচি অনুযায়ী বক্তব্য রাখতে উঠে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রথমেই অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, বিল নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ উত্থাপন করতে চান। এরপর নিজের দলের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের…”। এই কথাটি উচ্চারণ করতেই শাসকদলের বেঞ্চ থেকে শুরু হয় তীব্র হইচই এবং কটাক্ষ।

শাসক শিবিরের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “নিজেদের দলের সমস্যা আগে নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নিন, বিধানসভার সময় নষ্ট করবেন না।” পাশাপাশি কয়েকজন বিধায়ক চিৎকার করে বলতে থাকেন, “ওটা আর সর্বভারতীয় দল নয়, এখন ওটার নাম ‘কালীঘাট তৃণমূল’।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক যে তালিকা জমা দেন, সেই তালিকা অনুসারেই স্পিকারের দফতর বক্তাদের নাম ঘোষণা করে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের বা শাসকদলের কোনও ভূমিকা নেই। দলের নাম বা তালিকা নিয়ে আপত্তি থাকলে তা বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের সঙ্গেই আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এরপর অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বক্তব্য শুরু করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। শাসকদলের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই পরিস্থিতিতে তিনি আর কোনও বক্তব্য রাখবেন না।

এরপর একই বেঞ্চে থাকা কালীঘাট শিবিরের কুণাল ঘোষ তাঁর কাছে গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন শোভনদেব। শেষ পর্যন্ত আর সময় নষ্ট না করে অধ্যক্ষ বিলের আলোচনার পরবর্তী বক্তা হিসেবে শাসকদলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.