মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালু করেছে রাজ্য সরকার। তবে এই পরিষেবা চালুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বা নিয়মিত বেতনভোগী মহিলাদেরও একই সুবিধা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত। সেই বিতর্কের মাঝেই বুধবার এই প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই চালু করা হবে ‘পিঙ্ক কার্ড’, যার মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবেন।
বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বর্তমানে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ চালু রয়েছে। তবে সময়ের অভাবে শুরুতে কোনও আলাদা ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এবার পিঙ্ক কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনেক সরকারি চাকরিজীবী মহিলা নিজে থেকেই তাঁকে জানিয়েছেন যে তাঁরা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা নিতে চান না। তাঁদের বক্তব্য, সরকার তাঁদের উপযুক্ত বেতন দেয়, তাই নিজেরাই বাসের ভাড়া দিতে চান। এই মানসিকতাকে তিনি সম্মান জানিয়ে বলেন, সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের কাছেই পৌঁছানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, এই সুবিধা মূলত ছাত্রী, চা-বাগানের শ্রমিক এবং চিকিৎসার জন্য গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে আসা মহিলাদের মতো প্রকৃত প্রাপকদের জন্যই সংরক্ষিত থাকা উচিত। সেই লক্ষ্যেই পিঙ্ক কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালাতে সরকারের বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা হয়। এবার পিঙ্ক কার্ড চালুর মাধ্যমে এই সুবিধা আরও নির্দিষ্ট উপভোক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন নজর থাকবে, কোন কোন শ্রেণির মহিলারা এই কার্ডের আওতায় আসেন।







