১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলের জয় তুলে নিল ফ্রান্স। তবে এই ম্যাচ শুধুমাত্র একটি নকআউট জয় নয়, বরং ছিল স্নায়ুর লড়াই, যেখানে রক্ষণাত্মক কৌশল, ট্যাকটিক্যাল ফাউল এবং প্ররোচনার মাঝেও নিজেদের সংযম ধরে রেখে জিতেছে ফরাসিরা।
প্রথম ৭০ মিনিট জুড়ে প্যারাগুয়ে শক্ত রক্ষণে ফ্রান্সকে আটকে রাখে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে বাড়তে থাকে শারীরিক সংঘর্ষ ও উস্কানিমূলক আচরণ। ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ম্যাচ শেষে বলেন, “আমরা শুধু সুন্দর ফুটবল খেলতে জানি না। প্রয়োজন হলে কঠিন লড়াইয়েও নামতে পারি। আজ আমরা সেটাই প্রমাণ করেছি।”
ম্যাচে প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের আচরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমবাপের বিরুদ্ধে কনুইয়ের ব্যবহার, মাইকেল ওলিসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নাটকীয়ভাবে পড়ে যাওয়া, এমনকি এমবাপের পেনাল্টির আগে স্পট নষ্ট করার চেষ্টাও নজর কেড়েছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ফুটবলের সীমা ছাড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসনের আশ্রয় নিয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছেন ম্যাচের রেফারি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফ্রান্স তিনটি হলুদ কার্ড দেখলেও প্যারাগুয়ের কোনও ফুটবলার কার্ড দেখেননি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রাক্তন ফুটবলাররাও। জো হার্ট প্যারাগুয়ের খেলাকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন, আর জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচের মতে, অন্তত একটি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল। থিয়েরি অঁরিও বলেন, “শেষ পর্যন্ত ফুটবলই জিতেছে।”
তবে বিতর্কের মাঝেও সবচেয়ে বড় বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। চাপ, প্ররোচনা এবং বিতর্ক—সবকিছুকে পাশে সরিয়ে তারা ম্যাচ জিতে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। বদলি ফুটবলার রায়ান চেরকির কথায়, “যে-ই আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামুক, আমরা সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।” ফ্রান্সের এই জয় তাই শুধু স্কোরলাইনের নয়, মানসিক দৃঢ়তারও এক বড় প্রমাণ।







