ভারতীয় ক্রিকেটে অর্থের ঝড় নতুন নয়। তবে এবার স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকিয়ার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—কোনওভাবেই ১০ ধরনের সংস্থা শুভমন গিল, জসপ্রিত বুমরাহদের ভারতীয় দলের স্পনসর হতে পারবে না। ক্রিকেটকে আরও স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
তালিকায় প্রথমেই বাদ পড়েছে অনলাইন গেমিং, বেটিং এবং জুয়ার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি। একইভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, মদ ও তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী সংস্থা, এমনকি পর্নোগ্রাফি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত কোনও প্রতিষ্ঠান। তবে বিস্ময়ের বিষয়, ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, অ্যালকোহলহীন পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থা, পাখা-মিক্সার-তালা প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং বীমা সংস্থাকেও স্পনসরশিপের দৌড় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই সব খাতে ইতিমধ্যেই বোর্ডের স্থায়ী স্পনসর বিদ্যমান।
প্রধান স্পনসর হওয়ার জন্য বোর্ড মঙ্গলবার থেকে দরপত্র আহ্বান করেছে। আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা (প্লাস ৯০ হাজার টাকা জিএসটি) জমা দিতে হবে। বিদেশি সংস্থার ক্ষেত্রে খরচ ৫৬৭৫ ডলার। তবে দরপত্র বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করেছে বিসিসিআই। পাশাপাশি শর্তও স্পষ্ট—শেষ তিন অর্থবর্ষে গড় বার্ষিক আয় কিংবা মোট সম্পদ অন্তত ৩০০ কোটি টাকা হতে হবে।
অতএব বোঝাই যাচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসরশিপ কেবল অর্থের প্রশ্ন নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। বোর্ডের এই নয়া নীতি একদিকে বিতর্ক এড়াবে, অন্যদিকে স্পনসরশিপ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও নিশ্চিত করবে।







