বিদেশ

হঠাৎ বিমান বদলে ট্রাম্প! খুনের আশঙ্কা, নেপথ্যে কি ইরানের হুমকি?

তড়িঘড়ি বিমান বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা থেকে তুরস্কে গিয়েছিলেন কাতারের উপহার দেওয়া বিশেষ বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে। কিন্তু দেশে ফেরার সময় ব্যবহার করলেন প্রায় ৩০ বছরের পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এমনকি, তাঁকে হত্যার চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা সামনে এসেছে। সফরসঙ্গী সাংবাদিকদেরও বিশেষভাবে সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কেন হঠাৎ এই বিমান বদল, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ‘হিট লিস্ট’-এর একেবারে শীর্ষে রয়েছে তাঁর নাম। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং মাঝ আকাশে বিমানে থাকাকালীনও হামলার চেষ্টা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণেই কি শেষ মুহূর্তে বিমান বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

কেন বদলানো হল বিমান?

*দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস*-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প প্রথমে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিল্ডেনহল ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। সেখানে অল্প সময়ের বিরতির পর তিনি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা-ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমানটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন বিমানটিতে এখনও এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়নি। তবে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা সবসময় কার্যকর থাকে। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং জানান, প্রয়োজনে বিভ্রান্তিমূলক কৌশল, অবস্থান গোপন রাখা এবং অন্যান্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ট্রাম্পকে বহনকারী পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের উড্ডয়নের শুরুর দিকে কিছু সময়ের জন্য ট্রান্সপন্ডারও বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে বিমানের অবস্থান সহজে শনাক্ত করা না যায়। এটিও ছিল সতর্কতামূলক নিরাপত্তা পদক্ষেপ।

যদিও ট্রাম্প নিজে নিরাপত্তার কারণেই বিমান বদল হয়েছে—এই দাবি মানতে চাননি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সম্ভবত একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিমানে রয়েছেন। আমি সবসময়ই হুমকির মধ্যে থাকি। ইরানের হিট লিস্টে আমার নাম একেবারে প্রথমে। আমার যদি কিছু হয়, তাহলে আপনাদেরও একই পরিণতি হতে পারে।” তাঁর দাবি, শুধুমাত্র পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই তিনি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরতে চেয়েছিলেন।

ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। ৭ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। এরপর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের একাধিক শহর ও বন্দর এলাকায় হামলা চালায় আমেরিকা। পরবর্তীতে বাহরিন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। যদিও কুয়েতের সেনাবাহিনীর দাবি, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সংঘর্ষ আরও বাড়ানো হলে আমেরিকাকে তার বড় মূল্য চোকাতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.