রাজ্য

শিল্পে বাধা দিলে কড়া ব্যবস্থা, মেজিয়ার মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন উৎপাদন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে শিল্প, বিনিয়োগ এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে অতীতের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বর্তমান সরকারের শিল্পনীতি ও অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। বিশেষ করে বামফ্রন্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনকালে বাংলার শিল্পক্ষেত্র যে পিছিয়ে পড়েছিল, সেই প্রসঙ্গ তুলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, গত কয়েক দশকে বাংলার অর্থনীতি নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যে বহু শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী রাজ্য থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। ফলে শিল্পের প্রসার থমকে যায়, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসে এবং বেকারত্ব বাড়তে থাকে। কাজের সন্ধানে বহু মানুষকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতেও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন বাংলার শিল্পোন্নয়নের ইতিহাসে একটি হতাশাজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিল্পের জন্য নিরাপদ, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই ক্ষমতায় এসেই গুণ্ডাদমন আইন কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, কোনও কারখানার কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি বা গেটে তালা ঝোলানোর চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নষ্ট করলে ক্ষয়ক্ষতির তিনগুণ অর্থ আদায় করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিন সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি এবং জোর করে অর্থ আদায়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনও স্থান নেই। কোথাও এমন অভিযোগ সামনে এলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি জানান। তাঁর দাবি, শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনও কাজই বরদাস্ত করা হবে না।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এখন বাংলায় শিল্প গড়তে এলে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা বা স্থানীয় স্তরে অর্থ দেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হবে না। অতীতে উচ্চস্তরের অনুমোদন পাওয়ার পরেও পুরসভা বা পঞ্চায়েত পর্যায়ে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে, যার ফলে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের এখনও একশো দিনও পূর্ণ হয়নি। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশের একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাঁর আশা, আগামী দিনে এই বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং তার মাধ্যমে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প দফতরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী, পাঁচবারের বিধায়ক এবং সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে শিল্পায়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। সরকারের লক্ষ্য, শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাকে আবার উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.