পূর্ব বর্ধমানের পালিতপুর শিল্পতালুকের একটি বেসরকারি স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় শনিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ ফার্নেস বিস্ফোরণে আহত হলেন তিন শ্রমিক। বিস্ফোরণের পর গলিত লোহা ছিটকে পড়ায় তাঁরা গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে পঙ্কজ যাদব ও উমেশ যাদবকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তাঁদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিয়মমাফিক উৎপাদনের কাজ চলাকালীন একটি ফার্নেস চালুর আগে সেখানে লোহার স্ক্র্যাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়ই আচমকা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে গলিত লোহা চারদিকে ছিটকে পড়ে এবং কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণেই ফার্নেসে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ধমান থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন শ্রমিকদের একাংশ।
শ্রমিক উজ্জ্বল গড়াইয়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফার্নেসগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চুল্লি চালু না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শ্রমিকদের আশঙ্কা, ওই সময় ফার্নেসে আরও বেশি স্ক্র্যাপ থাকলে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা অনেকটাই বাড়তে পারত।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার কমলেশ সিং। তাঁর দাবি, কারখানায় নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণেও কোনও গাফিলতি নেই।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি এই কারখানায় প্রথম দুর্ঘটনা নয়। গত বছরের ৯ জুন একই ধরনের ফার্নেস বিস্ফোরণে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর কারখানার নাম পরিবর্তন করা হলেও ফের একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এরও কয়েক বছর আগে একই কারখানায় আরেকটি ফার্নেস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপি নেতা সঞ্জয় দাসও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কাজ বন্ধ রাখা উচিত এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। একই কারখানায় বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করা এবং শিল্পাঞ্চলের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।







