দক্ষিণ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রদেশের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলবর্তী একাধিক অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে জাপান প্রশাসন।
জাপানের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের তীব্রতার কারণে কুমামোতো-সহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-র তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় প্রাথমিকভাবে সুনামির ঢেউ পৌঁছানোর খবর মিলেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে জরুরি পরিষেবা ও উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পের জেরে কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি-সহ একাধিক প্রদেশে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সমুদ্রতট থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ের উপর অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০১১ সালের বিধ্বংসী ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে অমলিন। সেই বিপর্যয়ে ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় দুর্ঘটনাও ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জাপান সরকার।







