বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের হতাশা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি আর্জেন্তিনা। তার মধ্যেই নতুন করে বিপাকে লিওনেল মেসিদের দল। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের সঙ্গে শারীরিক বচসা এবং রাজনৈতিক বার্তা-সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শনের অভিযোগে আর্জেন্তিনার একাধিক ফুটবলার, কোচিং স্টাফ ও ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা।
ফাইনালের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি
গত জুলাইয়ে নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও আর্জেন্তিনা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। ম্যাচ চলাকালীন এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় শেষ দিকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় আর্জেন্তিনাকে।
শেষ বাঁশি বাজতেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী নিয়োগ করে ফিফা। সেই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি এবং নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্তিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের অন্তত তিন ম্যাচ নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে।
অভিযোগের তালিকায় স্পেনের ফুটবলারও
সংঘর্ষের সময় স্পেনের রদ্রিকে মোলিনার পেটে ঘুষি মারতে দেখা যায়। অন্যদিকে পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং গাভিকেও ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জেরে মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও অখেলোয়াড়োচিত আচরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী এই ধরনের অপরাধে অন্তত এক ম্যাচের নির্বাসনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তের আওতায় আর্জেন্তিনা ফুটবল সংস্থাও
শুধু ফুটবলারদের আচরণ নয়, আর্জেন্তিনা ফুটবল সংস্থার ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে ফিফা। দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপ, বর্ণবিদ্বেষী স্লোগান এবং মাঠের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এর পাশাপাশি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর জিওভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওটামেন্ডির হাতে দেখা যাওয়া একটি ব্যানার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্তিনার’।
ফকল্যান্ড ইস্যুতে নতুন বিতর্ক
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটেন ও আর্জেন্তিনার মধ্যে বিতর্কিত অঞ্চল। ১৮৩৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ ১৯৮২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। সেই সংঘাতে ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্তিনীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। ক্রীড়া মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এই ঘটনাকেও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে ফিফা।
আমেরিকার ভিন্ন অবস্থান
যদিও এই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে বাকস্বাধীনতার অংশ বলেই ব্যাখ্যা করেছে মার্কিন প্রশাসন। বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী খেলোয়াড়দের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে সেই মন্তব্যে ফিফার তদন্তে কোনও প্রভাব পড়ছে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্জেন্তিনা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।







