ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মঙ্গলবার ভয়াবহ টার্বুলেন্সের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাঝআকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় AI2379 নম্বরের উড়ানটি। এই ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হলেও বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, ৪ অগস্ট সকালে থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। ক্রুজিং উচ্চতায় পৌঁছনোর পর হঠাৎ তীব্র টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে উড়ানটি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বিমানটি অল্প সময়ের জন্য প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রবল টার্বুলেন্স বা শক্তিশালী আপড্রাফ্ট-ডাউনড্রাফ্টের জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
সংস্থার দাবি, ঘটনায় কারও গুরুতর আঘাত লাগেনি। সামান্য আহত কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রুকে দিল্লি বিমানবন্দরের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে প্রকাশ্যে আসা কয়েকটি ভিডিও সেই দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে। ভাইরাল ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যাত্রীকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একজনের মুখ ও মাথায় ব্যান্ডেজ, একটি চোখ সম্পূর্ণ ঢাকা। অন্যদিকে, এক কেবিন ক্রুকে গলায় নেক কলার পরা অবস্থায় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশপথে হঠাৎ টার্বুলেন্সের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে সিটবেল্ট বাঁধা থাকলে আঘাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।







