জমি-দুর্নীতি মামলায় আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে একইসঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, তদন্তকারী সংস্থা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিন আদালতে কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা সুমিতের গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, মামলার সমস্ত নথি এখনও হাতে আসেনি, তাই বিস্তারিত বক্তব্য রাখার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবীর দাবি, ২০২১ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে। আদালতে তিনি জানান, তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
এর আগে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল সুমিত রায়ের। এরপরই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিতে গেলে জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারের আশঙ্কা ছিল বলেই তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।
উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল ও বিক্রির অভিযোগে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, জাল নথি তৈরি করে সরকারি জমি বিক্রির একটি চক্র চলছিল এবং সেই কাজে তাঁর সম্মতি ছিল। তদন্তে সুমিতের খোঁজ না মেলায় আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল।
তবে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেও, তদন্তে সহযোগিতা করা সুমিত রায়ের জন্য বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।







