তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের এক কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি জামা ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। এবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রবিবার দুপুরে তাঁকে ঘিরে প্রবল বিক্ষোভের পাশাপাশি উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো এবং ইট ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে।
রবিবার দুপুরে পুলিশি হেফাজতে রহস্যজনকভাবে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়িতে ছিলেন তিনি। বরাবরের মতো গাড়ির সামনের আসনে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন। সেই সময়ই আচমকা বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর কনভয়।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। ‘ওই দেখো চোর এসেছে’ বলেও কটাক্ষ করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজের অভিযোগও উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে-র পর এই প্রথম জেলায় গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে নিজের বাড়ির সামনে মিটিং-মিছিল করেছিলেন তিনি। হাইকোর্টে যাওয়ার পথেও একবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। তবে দলের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে এই প্রথমবার পথে বেরিয়েই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গাড়ি আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির লোকজন জড়ো করে এই বিক্ষোভ করানো হয়েছে।
মমতা বলেন, “আমাদের গাড়িতে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে। এত ইট মেরেছে কল্পনা করতে পারবেন না। এক ঘণ্টা গাড়ি আটকে রেখেছিল। বিজেপির লোক জোগাড় করে এই সব করানো হয়েছে। যিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি নিজে বাইরে রয়েছেন। পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতে গেছে।”
এর পরই তৃণমূল সুপ্রিমোর হুঁশিয়ারি, তিনি এই ধরনের বিক্ষোভে থামবেন না। তাঁর কথায়, “আমি বেরবোই। বিজেপি ভয় পায় আমায়। এই ভাবে আমায় আটকাতে পারবে না। ওরা ভয় পাচ্ছে কারণ ওদের মুখোশ খুলে যাবে।”
অন্যদিকে, এক বিক্ষোভকারী প্রশ্ন তোলেন, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ওয়ার্ডে কেন আসেননি। তাঁর দাবি, মৃত তৃণমূল কর্মী বিজ্জুর নামও আগে কখনও নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “এত দিন এই ওয়ার্ডে এসেছেন? বিজ্জুর নাম নিয়েছে কোনওদিন? কালকে মারা গিয়েছে, আজ এসে হাজির।”
ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংও তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শকুনের মতো মৃতদেহ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।” তাঁর দাবি, কোনও অপরাধের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এখন গোটা বাংলার মানুষ শান্তিতে বাস করছেন, তাই চোরকে তো চোরই বলবে।”







