মঞ্চ থেকে অভিনয়ের যাত্রা শুরু। কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেনের হাত ধরে পা রাখেন বড়োপর্দায়। তারপর দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ধারাবাহিক থেকে চলচ্চিত্র সব মাধ্যমে সমান সাবলীল অনসূয়া মজুমদার। তবে এত লম্বা সফরের পরও বড়ো পরিচিতি এসেছে সাম্প্রতিক কালে। তা নিয়ে কি আক্ষেপ রয়েছে অভিনেত্রীর? ‘আক্ষেপ করি না’ সাফ জানিয়ে দিলেন অনসূয়া মজুমদার।
একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন,”চোখের সামনে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। তাই আক্ষেপটা ঠিক আসে না। আজও ‘ডিরেক্টরস আর্টিস্ট’ আমি। পরিচালকের কথাই শেষ কথা। তাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে গিয়েছি শুধু। কিছু চরিত্রে দর্শকের বিপুল ভালবাসা পেয়েছি। আবার কিছু চরিত্র দর্শকের মনে জায়গা করতে পারেনি। এই নিয়ে মন খারাপ করি না।” বর্তমান সময়ে সাহসিকতার সংজ্ঞাও বদলে গিয়েছে। অনেকেই পর্দায় সাহসিকতার প্রমাণ দিতে ‘বোল্ড সিন’ বা ‘ইনটিমেট সিন’-এর দিকে ঝুঁকছেন। এ প্রসঙ্গে অনসূয়ার স্পষ্ট মত,”আমি একেবারেই তা মনে করি না। একটা দৃশ্যে নিজের বাহ্যিক সত্তাটা ভেঙে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলাই সাহসিকতার পরিচয়। ‘বোল্ড সিন’, ‘ইনটিমেট সিন’ কখনও একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর দক্ষতার মাপকাঠি হতেই পারে না।”
এই মুহূর্তে ছোটোপর্দায় অনসূয়াকে দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘চিরসখা’-য়। পাশাপাশি বড়পর্দায় তিনি ধরা দেবেন তথাগত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় আসন্ন ছবি ‘রাস’-এ। হারিয়ে যাওয়া বাঙালিয়ানার গল্প বলবে এই ছবি, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে অনসূয়াকে। পঞ্চাশ বছরের অভিনয়জীবনে যিনি কখনও থেমে যাননি, তিনি এখনও অভিনয়ের প্রতি সেই একই নিবেদন নিয়ে পর্দায় উপস্থিত হন। অনসূয়া মজুমদার তাই শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক চলমান অধ্যায়, যার প্রতিটি পরতই অভিনয়প্রেমীদের জন্য এক অমূল্য শিক্ষা।







