রাজ্য

আমফানের শিক্ষা, তারাতলার ছায়া! বিপর্যয় মোকাবিলায় এবার ‘অর্জুন’, কলকাতা-পাহাড়-সুন্দরবনে নামছে বিশেষ বাহিনী

বিপর্যয় এলে উদ্ধারকাজে আর অপেক্ষা নয়। ঝড়, বন্যা, পাহাড়ি ধস কিংবা বহুতল ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোকাবিলা করবে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যে শুরু হল নতুন উদ্যোগ—‘অর্জুন’ বাহিনী। মঙ্গলবার এই বিশেষ বাহিনীর সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রাথমিকভাবে ২০০ জনকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘অর্জুন’ বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এর মধ্যে কলকাতায় থাকবেন ১০০ জন, পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন এবং সুন্দরবনে আরও ৫০ জন। ধাপে ধাপে মুকুটমণিপুর, তারাপীঠ, তরাই-ডুয়ার্স-সহ বিপর্যয়প্রবণ অন্যান্য এলাকাতেও এই বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন ‘অর্জুন’ বাহিনী?

বিপর্যয়ের সময় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য রাজ্যে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মী এবং আধুনিক পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের একাধিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে।

তারাতলার বিপর্যয়, আমফানের সময়ের পরিস্থিতি এবং অতীতে পোস্তা ও মাঝেরহাটের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, অতীতে বড় বিপর্যয়ের সময় বাইরে থেকে উদ্ধারকারী দল আনতে হয়েছে। আমফানের সময় ওড়িশা থেকেও দল এনে উদ্ধারকাজ চালানোর উদাহরণ দেন তিনি।

কলকাতা থেকে দিঘা, পাহাড় থেকে সুন্দরবন—বদলাবে পরিকাঠামো

শুধু বাহিনী গঠন করেই থামতে চাইছে না রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা, দিঘা এবং দার্জিলিংয়ে সিভিল ডিফেন্স ও বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে।

বহুতল নির্মাণে নিয়ম না মানা, জলাজমি ভরাট করে বাড়ি তৈরি, মাটির পরীক্ষা ছাড়াই নির্মাণের অনুমোদন কিংবা ভবনের ভারবহন ক্ষমতা যাচাই না করার মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

মাসে ২৫ হাজার ‘বীর’, ৪০ হাজার ‘বীর নায়ক’

‘অর্জুন’ বাহিনীর কর্মীদেরও নির্দিষ্ট পরিচয় ও দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাহিনীর সাধারণ কর্মীদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীর’, আর নেতৃত্ব দেবেন ‘বীর নায়ক’।

ঘোষণা অনুযায়ী, ‘বীর’দের মাসিক ২৫ হাজার টাকা এবং ‘বীর নায়ক’দের ৪০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তাঁদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কভারেজ বা সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি আগামী জানুয়ারিতে অগ্নিবীরের প্রথম ব্যাচ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের নিয়োগের বিষয়েও রাজ্য ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে লক্ষ্য একটাই—বিপর্যয় ঘটার পর সাহায্যের জন্য অন্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে ঘটনাস্থলেই দ্রুত প্রশিক্ষিত বাহিনী নামানো। ‘অর্জুন’ কতটা কার্যকরভাবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.