অবশেষে স্বস্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনকারীরা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে CJP-র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। গত ২০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মোট ২৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা বাতিল করা হয়েছে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পরই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিল বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় CJP।
বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের সময় CJP কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয়েছিল সংগঠনটি। এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিলেরও ঘোষণা করা হয়েছিল। CJP-র দাবি ছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস কেন্দ্রের তরফে দেওয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।
এরপর CJP কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, মহারাষ্ট্র ও অসমের পক্ষেও আবেদন জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এর আগে CJP-র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি। পরে বিজেপি ও এনডিএ শাসিত আরও কয়েকটি রাজ্যও একই পথে এগোয়।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘কোনও প্রতিবাদে অংশ নেওয়া অপরাধ নয়।’ পাশাপাশি তুষার মেহতা জানান, ওই সময়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতেও নতুন করে কোনও এফআইআর দায়ের করা হবে না। তবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এদিনের শুনানিতে নিট পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মঘাতী হওয়া পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও আদালতকে অবহিত করেন সলিসিটর জেনারেল। তবে কীভাবে সেই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তার প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে তিন মাস সময় চান তিনি। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে CJP কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ হওয়ার পরই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিলের কথা ঘোষণা করেন CJP নেতা সৌরভ দাস।







