আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসতে চলেছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। প্রশাসনিক সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসতে পারেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এমনকি রক্তক্ষয়ী গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করল বেজিং।
স্বাভাবিকভাবেই মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও চিন ফের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোতে পারে। তবে সম্পর্কের পথে এখনও রয়েছে একাধিক জটিলতা। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর তা আরও গভীর হয়। পাশাপাশি অরুণাচল সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা নিয়েও ভারত-চিনের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ কোনও সমঝোতার পথে এগোয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে চিনা প্রেসিডেন্টের। এর আগে শেষ বার ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন জিনপিং। তার ঠিক পরের বছরই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনা বাহিনী। ওই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারিভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল। গালওয়ানের ঘটনার পর থেকেই নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের উপস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে আয়োজিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শি জিনপিংকে। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে করমর্দন হলেও কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। এবার দিল্লিতে তাঁদের মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না এবং হলে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার কোনও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।






